শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

ব্যাংকক ভ্রমণ নির্দশিকা

যখন আপনি ব্যাংকক ভ্রমণ করতে আসবেন একটা জিনিস মনে রাখবেন যে ব্যাংকক থাইল্যান্ডের রাজধানী। রাজা রামা (প্রথম) এই শহর নির্মান করেন। দেশের নতুন ও পুরাতন অংশের সংমিশ্রণ ঘটেছে। সত্যিকার অর্থেই এই শহর থাইবাসীদের পুরাতন ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সেইসাথে আধুনিক সমাজের সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে চলার অনুপম দৃষ্টান্ত। যেভাবেই আপনি দেখুন, এটাই আপনার চোখে পড়বে, এমনকি রাজকীয় পরিবার যে এলাকায় বাস করেন সেখানেও এটা চোখে পড়বে যেখানে থাই সরকার ও প্রশাসনের কেন্দ্র রয়েছে। এটা দেশের শিল্প, বানিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে দেশের প্রধান বন্দর রয়েছে এবং লোকসংখ্যা যুক্তরাজ্যের এক দশমাংশ। ব্যাংকক শহর শ্যাম উপসাগর পর্যন্ত বয়ে যাওয়া চাও ফ্রায়া নদীর তীরে অবস্থিত।

ব্যাংককের ইতিহাস

ব্যাংককের আসল নাম ক্রুং থেপ বা দেবদূতের শহর। আত্বিকভাবে, বাহ্যিকভাবে এবং প্রতীকিভাবেও এখানকার মানুষ তাই বিশ¦াস। আপনি যখন এখানে প্রথম আসবেন আপনার মনে ব্যাংকক একটা আধুনিক মহানগরী হিসেবে ছাপ ফেলতে পারে গগনচুম্বী অট্টালিকা, কনডোজ, হোটেল, দোকান-পাট এবং আধুনিক শপিং মলের ছড়াছড়ি দেখে। এটা ব্যাংককের মাত্র একটি আকর্ষণীয় দিক।

এই শহর সত্যিই প্রাচ্যের একটি বিচিত্র শহর। এই শহর সত্যিই প্রাচ্যের একটি বিচিত্র শহর। ব্যাংকক একটা উন্নত শহর হয়েও এর জনগন কখনো নিজেদের ঐতিহ্যগত দিকটি ভুলতে পারেন না যার কারণে ব্যাংকক একটা চমতকার শহর হিসেবে বিবেচিত। চারশ বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরের প্রতিটির চমতকারিত্ব আপনাকে জানিয়ে দেবে এর শিল্পোতকর্ষতা।

ব্যাংককের দর্শনীয় জিনিসগুলি

ব্যাংককে আবিষ্কার করার মতো আপনি প্রথম দর্শনে যা দেখবেন তার চাইতেও অনেক বেশী কিছু রয়েছে। ব্যাংককের প্রধান আকর্ষণসমূহ ছাড়াও কিছু স্থান রয়েছে যেগুলি কম পরিচিত। তার মধ্যে একটা হলো ওয়াত রাচাবোফিত। এখানে দর্শনযোগ্য অলঙ্কৃত ফলকসমৃদ্ধ প্রচুর স্মৃতিসৌধ রয়েছে। আরও কিছু জায়গা দেখতে প্রায়ই বাদ পড়ে যেমন ব্যাংককের গ্রান্ড প্যালেস সেইসাথে রয়েছে জাতীয় যাদুঘর ও উইমানমেক থ্রোন হল এবং জিম থম্পসন’স হাউজ।

আপনি ব্যাংককের সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করতে পারবেন যদি ঐতিহাসিক চাও ফ্রায়া নদীকে ভালভাবে অনুসন্ধান করেন। অনেক কিছু দেখা ও জানার আছে ব্যাংককে কারণ এখনও সেখানে পুরনো ঐতিহ্য বর্তমান যা প্রভাবান্বিত করে সংস্কৃতিকে সেইসাথে আধুনিক সভ্যতাকে। এখানকার জনগণ তাদের অতীতকে ভালবাসে সেইসাথে বর্তমানের প্রতিও তারা উতসাহী যার ফলে ব্যাংকক একটা সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে।

শহরের মানুষদের কাছে একটা মজার বিষয় হলো তাদের খাদ্য-খাবার গ্রহণ। তারা খুব মশলদার ও অভিজাত খাবার গ্রহণ করে। জাতীয়ভাবে যে খাদ্যগুলো বিশিষ্ট তার মধ্যে মাছ, কাঁকড়া, গলদা চিংড়ি ও বাগদা চিংড়ি রয়েছে। উপরোক্ত খাদ্য গুলি ছাড়াও অন্যান্য খাবারও রয়েছে। ব্যাংককের খাবার দাবার সত্যিই একটা মজার ব্যাপার। যত্রতত্র জাকজমকপূর্ণ, বসে পড়ার মতো রেস্তোরাঁ রয়েছে খাদ্য খাবারের বিশেষ জায়গাগুলির পথে। যেকোন রুচির লোকজনের জন্য এখানকার খাবার চমকপ্রদ মনে হবে।

থাইবাসীগন তাদের জীবনকে আমোদপ্রমোদের মাধ্যমে উপভোগ করে সেইসাথে রয়েছে তাদের রাত্রিকালিন জীবনের আনন্দ। এখানে প্রত্যেকের জন্যই আনন্দের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি ক্লাসিক্যাল থাই নাচ দেখতে পারেন আবার লাউঞ্জে বসে ককটেল পান করতে পারেন। যারা ডিসকো পছন্দ করেন তাদের ডিসকোর ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

থাইল্যান্ডে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা যা দর্শকরা উপভোগ করে থাকেন তা হলো থাই কিকবক্সিং (মুয়েই থাই)। থাই কিকবক্সিং এর জন্য প্রতিযোগীদের গ্লাভযুক্ত পা, হাঁটু, কনুই ও মুষ্ঠি ব্যবহার করতে হয়। স্তাহের অধিকাংশ রাতেই আপনি কোন না কোন স্টেডিয়ামে এইসব খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এখানে আসলে আপনি অবশ্যই এই খেলা মিস করবেন না। শুধু খেলা দেখাই আনন্দের নয় রিং এর চারপাশের হৈচৈ আর দৃশ্যও দেখার মতো।

আপনি যদি উচ্চমার্গের কোন কিছু থাইল্যান্ডে উপভোগ করতে চান তবে থাই কালচারাল সেন্টারে চলে যেতে পারেন যেটা সম্প্রতি চালু হয়েছে। আপনি এখানে নাচ, গান এবং নাটক উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি হাই রেটেড কোন হোটেলে এসব উপভোগ কতে পারবেন।

ব্যাংককে কেনাকাটা

কেনাকাটা হলো ব্যাংককে আর একটি আনন্দজনক ব্যাপার। বিগত কয়েক বছরে আরও অধিক সংখ্যক প্লাজা, মল এবং দোকানপাট এখানে মাথা উঁচু করেছে। মানুষের উচ্চ পছন্দের কেনাকাটার মধ্যে রয়েছে থাই সিল্ক ও থাই সোনা।

সিল্ক সামগ্রী প্রস্ত্তত হয় বৈচিত্রময় রং ও নকশা দিয়ে সেসাথে থাকে আকর্ষণীয় দাম। আপনি থাই খনি থেকে উত্তোলিত চুনি ও নীলা পাথর দেখতে পারেন। আপনি যদি জুয়েলারী সামগ্রী ক্রয় করেন তাহলে এগুলি সস্তায় মিলবে না তবুও মোটামুটি সাশ্রয়ী দামে আপনি কিনতে পারবেন এগুলি স্থানীয়ভাবে তৈরী একারনে। যারা স্বর্ণের জুয়েলারী ক্রয় করবেন তাদের উচিত চায়না টাউনে যাওয়া যেখানে ৯৬.৫% খাঁটি সোনার জুয়েলারী পাওয়া যায়।

ব্যাংককে থাকবার ব্যবস্থা

ব্যাংককে আপনি থাকার জন্য আপনার সামর্থ্যের মধ্যে বহু ব্যবস্থা পাবেন। এমনকি চাও ফ্রায়া নদীর সামনে অবস্থিত হোটেলেও আপনি থাকতে পারেন যেমন ব্যাংককের বিখ্যাত ওরিয়েন্টাল হোটেল অথবা পেনিনসুলা হোটেল অথবা গাছপালা ও বাগান ঘেরা কোন হোটেলেও আপনি থাকতে পারেন আপনার পছন্দমতো নগরীর বানিজ্যিক অংশের বাইরে । ব্যাংককে আপনি পৃথিবীর যেকোন জায়গার তুলনায় ভাল আতিথেয়তা লাভ করবেন। আপনি যদি ব্যাংককের বিখ্যাত নিশিজীবন এলাকা যেমন প্যাটপং, সয় কাউবয় বা নানা প্লাজায় থাকতে পছন্দ করেন তাহলে আপনার উচিত ভাল একটি হোটেলে রুম বুক করা যেমন সিলমে ক্রাউন প্লাজা হোটেল কি ওয়্যারলেস রোডে প্লাজা এথেনিতে। তারা দক্ষতার সাথে আপনার যত্ন ও প্রয়োজনমতো সব ব্যবস্থা করে দেবে।

ব্যাংককের মানচিত্র


শহরে ঘুরতে খুব বেশী অর্থের প্রয়োজন হয়না। ট্যাক্সি ও টুক টুক নামে যান পাওয়া যায় এখানে। এগুলো মটরচালিত ত্রিচক্র যান। নির্দিষ্ট রাস্তায় চলাচলের জন্য বাস রয়েছে যেগুলি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও শীতাতপ ছাড়াও। আপনি যদি চাও ফ্রায়ার কাছে থাকেন তাহলে নৌ ট্যাক্সি ও খেয়া পারের ব্যবস্থা রয়েছে। লম্বা লেজওয়ালা নৌকাতেও আপনি ভ্রমণ করতে পারেন আর আপনার জন্য নির্দেশনাসহ ভ্রমণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ভ্রমণের সময় আপনি কেন্দ্রীয় সমতল ভূমি ও আয়ুত্থায়ার ধ্বংসাবশেষ দেখতে পারেন, ১৭৬৭ সালে ধ্বংস হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটা শ্যাম দেশের রাজধানী ছিল। দেখার জন্য আপনি প্রমোদতরীতে চড়তে পারেন। ব্যাংকক থেকে এটা ৮০ কি.মি. দুরে অবস্থিত। একসময় ব্যাংকক কি জাকজমকপূর্ণ ছিল তা আপনি দেখতে পাবেন। পূর্বের রাজকীয় গ্রীষ্মকালীন নির্জনবাস জায়গা বাং পা ইন আজও আপনি দেখতে পাবেন। বিস্ময়কর স্থাপত্যকর্মে এই জায়গা পরিপূর্ণ।

আপনি যদি ধ্বংসাবশেষের উত্তরে যান তবে লোপ বুড়ি পাবেন। শহরটি আপনাকে মুগ্ধ করবে না তবে আপনি এখানেও ধ্বংসাবশেষ পাবেন। এটি কৌতুহল উদ্দীপক জায়গা। ব্যাংকক শহরের পশ্চিমে গেলে আপনি নাখন পাথম দর্শন করতে পারবেন যেটা পৃথিবীর সর্বোচ্চ বৌদ্ধ মনুমেন্ট। আপনি কোয়াই নদীর উপরে ব্রীজ দেখতে পারেন সেসাথে রোজ গার্ডেন রিজোর্ট। রোজ গার্ডেন রিজোর্টের খুব কাছেই সামফ্রান এলিফ্যান্ট গ্রাউন্ড ও চিড়িয়াখানা অবস্থিত। যদি ব্যাংকক শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে যান সেখানে একটা কুমির খামার দেখতে পাবেন যেটা পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম। এর ঠিক সামনেই পুরাতন শহর। সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতি আকর্ষণ আছে এমন যে কেউ এ স্থান ভ্রমণ করতে পারেন। 

========================================================================

চিয়াং মাই ভ্রমণ নির্দশিকা

Chiang Mai Photo from Thailand Photo Library১২৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত চিয়াং মাই থাইল্যান্ডের প্রধান উত্তরাঞ্চলীয় শহর। এটা ব্যাংকক থেকে ৭০০ কি.মি. দুরে অবস্থিত। সাগর থেকে ৩০০ মিটার উঁচু চিয়াং মাই হিমালয়ের পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত। এখানকার বনে এখনও হাতি দ্বারা কাজ হয় । সুন্দর জলপ্রপাত, গুহা, গিরিসঙ্কট, বেষ্টিত বাগান সেইসাথে প্রচুর বৃক্ষরোপন চিয়াং মাই এ একটা সুন্দর বিস্তৃত ভূ-চিত্র তৈরী করেছে।

চিয়াং মাই লান না থাই এর রাজধানী ছিল, এখানে দশ লক্ষ ধান ক্ষেত্র রয়েছে। এটা ছিল প্রথম স্বাধীন রাজ্য যাকে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল বলা হয়। এটা ১৫৫৬ সাল পর্যন্ত একটা সফল ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং ব্যবসা-বানিজ্যের্ত কেন্দ্র ছিল । বার্মা এখানে আগ্রাসন চালায়। ১৭৭৫ সালে বার্মিজদের হটিয়ে দিয়ে থাইরা একে থাইল্যান্ডের অবিচ্ছেদ্দ অংশে পরিণত করে। বিভিন্ন উতসব, ১৩০০ শতকের মন্দির, সুন্দর দৃশ্য, চমতকার ফলমুল যেমন আপেল, পীচ এবং স্ট্রবেরী, শীতল আবহাওয়া এবং সুন্দর রমনীদের দেখলে মনে হবে এটা শাংগ্রী লা।

ব্যাংকক থেকে চিয়াং মাই ভ্রমণে বরাবরই একটা নির্জন এলাকা হিসেবে মনে হবে। ১৯২০ সালের আগে যদি আপনি এখানে আসতেন তাহলে নদীপথে অথবা হাতির পিঠে চড়ে আসতে হতো যা কয়েক স্তাহ সময়ের ব্যাপার। এখানকার মানুষদের নিজস্ব ভাষা, রীতি, হস্তশিল্প, ঐতিহ্য, নৃত্য এবং খাদ্য রয়েছে। চিয়াং মাই ভ্রমণে আসবেন যারা তারা কখনো এখানে ভ্রমণের আনন্দ ভুলবেন না। এখানে মোন, বার্মিজ, শ্রীলঙ্কান এবং লান না থাই এর স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণ ঘটেছে। এখানে বিভিন্ন জিনিসের উপর দেখা যাবে প্রচুর কাঠের খোদাই কাজ ঠিক জটিল সিড়ির মতো।

চিয়াং মাই এর দৃশ্য দর্শন

শহরে কয়েকটা প্রধান মন্দির রয়েছে। একটির নাম ওয়াত চিয়াং মান যা সবচেয়ে পুরাতন। অন্য একটির নাম ওয়াত চেদি লুয়াং যা ১৫৪৫ সালের ভূমিকম্পে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াত ফ্রা সিং এ ফ্রা সিং বুদ্ধম এর একটা ছবি রয়েছে। এটা তৈরী হয়েছিল ১৩৪৫ সালে। ওয়াত কু তাও চীনামাটি খচিত একটা সুন্দর প্যাগোডা । ওয়াত সুয়ান ডক ওয়াত উমং এর একটা মন্দির। এটা চৌদ্দশ শতকে তৈরী হয়েছিল লান না থাই রাজের প্রমোদ বাগ হিসেবে। সবচেয়ে দর্শনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মন্দির হলো ওয়াত ফ্রা থাত দই সুদেপ। এটা একটা ভূ-চিহ্ন যেখান থেকে শহর দেখা যায়, শহর এখান থেকে ১৫ কি.মি. দুরে। এই মন্দিরে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে যা পর্যটক আকর্ষণ করে এবং বৌদ্ধ পুন্যার্থিরা এখানে সারা বছর আসেন। এখানে আসতে ১২ কি.মি. পাহাড়ী জিগজ্যাগ পথ আছে। চিয়াং মাই এর চিড়িয়াখানা অবশ্যই দেখতে আসবেন যেখানে খাড়া সিড়ি বেয়ে উঠতে হয়। আপনি যদি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে না চান তাহলে কার এ চড়ে মন্দিরে আসবেন যেখান থেকে মজাদার দৃশ্য দেখা যায়।

মন্দিরে ভ্রমণ ছাড়াও আপনি মার্কটে অথবা বড় বাজাওে যেতে পারেন কেনাকাটার জন্য। আপনি এখানে অ্যান্টিক, জুয়েলারী, পাইপ, এমব্রয়ডারী, সিল্ক, সুতি কাপড়, ঝুড়ি, সেলাডন, রুপার অলংকার, ফার্ণিচার, ল্যাকার ওয়্যার, খোদাইকাষ্ঠ এবং ছাতা পাবেন। আপনি চিয়াং মাই এ মানুষকে কর্মরত অবস্থায় দেখতে পাবেন। শহরের প্রান্তে বো সাং গ্রাম দেখা যাবে। আপনার কেনাকাটার কাজ শেষ হলে সান কামফানেগ এর উষ্ণ প্রস্রবনে আরাম করতে পারেন যা শহর থেকে ৩৬ কি.মি. দুরে অবস্থিত। প্রস্রবনের পানি উচ্চ সালফারযুক্ত যা স্বাস্থ¨ পুনরুদ্ধারক।

চিয়াং মাই এর উতসব

চিয়াং মাই এ বেশ কয়েকটি বার্ষিক উতসব অনুষ্ঠিত হয়। তিনটা আছে উল্লেখ করার মতো। প্রথমটি হলো ফুল উতসব যা ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম স্তাহে অনুষ্ঠিত হয়। এটা নাতিশীতোষ্ণ ও গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফুল ফোটার উতসব। উতসবের সময় শোভাযাত্রা ও প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় উতসব হলো সংক্রান। এটা এপ্রিলের ১৩-১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। এটা থাইবাসীদের নতুন বছর উদযাপন। ধর্মীয় উতকর্ষতা সাধনের জন্য ৩ দিনের উতসব, তীর্থযাত্রা, সুন্দরীদের প্যারেড, নাচ এবং অন্যান্য নির্বাধ অনুষ্ঠান সেসাথে জল ছোড়া উতসব রয়েছে। শেষ উতসব হলো লয় ক্রাথং। এটা মধ্য নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এটা চান্দ্র বছরের দ্বাদশ মাসের পূর্ণ চন্দ্ররে দিন অনুষ্ঠিত হয়। এটা সবচেয়ে আকর্ষণীয় উতসব কারণ মানুষ পূর্ণ চন্দ্ররে রাতে কলাগাছের ভেলায় মোমবাতি, ধূপ, ফুল এবং একটা কয়েন জলদেবতাকে সম্মান করে ভাসিয়ে দেয় সেসাথে ভাসিয়ে দেয় বিগত বছরের পাপকে ।

উপরোক্ত উতসবগুলির যেকোন একটির সময় যদি চিয়াং মাই এ আসেন তবে সবচেয়ে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর হোটেল আছে যেখানে আরামদায়ক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকবার ব্যবস্থা রয়েছে। যাদের বাজেট সমস্যা আছে তারা সাশ্রয়ী অতিথি নিবাসে থাকতে পারেন। যদি চিয়াং মাই এর বাইরে থাকতে মনস্থ করেন তাহলে মা সা ভ্যালীতে থাকার জন্য বাংলো ও কেবিন পাবেন। আপনি থাই পর্যটন কর্তৃপক্ষের চিয়াং মাই শাখা থেকে ট্যূরিস্ট গাইড নিয়ে নিতে পারেন।

চিয়াং মাই এ চীনা খাদ্যের পাশাপাশি ইটালিয়ান, ফ্রেঞ্চ, জার্মান এবং মুসলিম বৈশিষ্টের রেস্তোরাঁ আছে। এখানে আমেরিকান স্টাইলের কাবাব ঘর, স্যান্ডউইচ ঘর, ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁ, পানশালা এবং নিরামিশ রেস্তোরাঁ রয়েছে। চা এবং কফি হাউজে আপনি ভাল চা অথবা কফি পান পাবেন। স্থানীয় খাবারের স্বাদ যদি আপনি উপভোগ করতে চান তাহলে মশলাযুক্ত নায়েম সসেজ সেসাথে হালকাভাবে রান্না করা খাও সয় নুডল্‍স খেতে পারেন। প্রচুর পর্যটক এখানে আসেন খানটক ডিনার ও উত্তরের নৃত্য উপভোগ করার জন্য।

চিয়াং মাই এর মানচিত্র


চিয়াং মাই এ থাকবার ব্যবস্থা

চিয়াং মাই এ থাকবার জন্য সব বাজেটের হোটেল ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি চিয়াং মাই এ ইমপেরিয়াল মা পিং হোটেল বা রয়্যাল প্রিন্সেস হোটেলে থাকতে পারেন।

চিয়াং মাই ও এর আশেপাশে ভ্রমণ

নগরীতে আপনি পদব্রজে ভ্রমণ করে এর নিবিড়তা অনুসন্ধান করতে পারেন। আপনি যদি পদব্রজে ভ্রমণ না করতে চান তাহলে বাস, মিনিবাস, অথবা ত্রিচক্রযানে চড়তে পারেন। আপনি গাইডেড ভ্রমণে যেতে পারেন তারা আপনার সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। দিন ও স্তাহ ভিত্তিতে কোন গাড়ী ভাড়া করা যেতে পারে। আপনি যদি ব্যাংককে আসেন তাহলে বিভিন্ন রকম যানবাহন পাবেন চিয়াং মাই যাওয়ার জন্য। চিয়াং মাই ও ব্যাংককের মধ্যে রেল, বাস ও বিমানপথে যোগাযোগ রয়েছে। থাই এয়ারওয়েজ বোইং জেটে আপনার মাত্র ৫৫ মিনিট সময় লাগবে। আপনি যদি বাসে যেতে চান তাহলে ফাহোনিওথিন রোডে যাবেন তারা আপনাকে ১২ ঘন্টায় পৌঁছে দেবে। যদি ট্রেনে যেতে চান তাহলে সময় লাগবে ১৪ ঘন্টা।  

=============================================

পাত্তাইয়া ভ্রমণ নির্দশিকা

পাত্তাইয়া ভ্রমণ নির্দশিকাসারা বিশ¦ থেকে মানুষ এশিয়ার সর্বোত্তম সৈকত নিবাস পাত্তাইয়ায় আসেন। আপনি যা যা কল্পনা করতে পারেন তাই এই যাদুকরী পাত্তাইয়ায় এসে আপনি পেয়ে যাবেন। আপনি উইন্ডসার্ফ, স্কুবা ডাইভ, কোরাল দ্বীপ ভ্রমণ, পাম ঘেরা হোটেলে অবস্থান, মজাদার সামুদ্রিক খাবার এবং এই রিজোর্টের চমতকার আবহাওয়া উপভোগ করতে পারেন। এখানে আপনি চমতকার নিশি জীবন উপভোগ করতে পারবেন। একটি স্মরণীয় অবকাশ যাপনের জন্য সবরকম ব্যবস্থা আপনার নখাগ্রেই পাবেন।

পাত্তাইয়ায় এসে আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী থাকার সুবিধা পাবেন। আপনি হোটেল, বাংলো, সস্তার হোটেল, সরাইখানা এবং অতিথিনিবাসে থাকতে পারেন। সুতরাং আপনার পছন্দ অনুযায়ী সব রকম ব্যবস্থা পেয়ে যাবেন।

পাত্তাইয়ায় আপনি আপনার পছন্দানুযায়ী উত্তম সব খাবার পাবেন। আপনি হোটেল বুফেতে খেতে পারেন অথবা রেস্টুরেন্টে বসে খেতে পারেন। এখানে কাবাব ঘর, কফি শপ সেসাথে ফাস্ট ফুড রেস্টোরাঁয় আপনি যেতে পারেন। আপনি যদি ঐতিহ্যগত থাই খাবার খেতে ইচ্ছা করেন তাহলে প্রচুর পরিমানে পাবেন।

পাত্তাইয়ায় খেলাধুলার সুযোগ

এখানে আপনার পরিবারকে ব্যস্ত রাখার জন্য প্রচুর খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি যদি এগুলো উপভোগ করেন তবে আপনার জন্য উইন্ড সার্ফিং, সেইলিং, গেম ফিশিং, প্যারা সেইলিং, ওয়াটার স্কিইইং এবং স্কুবা ডাইভিং এর ব্যবস্থা রয়েছে।

পাত্তাইয়ার মনোরম দৃশ্যাবলী

আপনি যদি মাটির উপরে অধিক পরিমানে দৃঢ়পদ হন তবে আপনার জন্য গ্রাউন্ডের খেলা, আমোদপ্রমোদ এবং চিত্তবিনোদন যেমন গল্ফ, ঘোড়ায় চড়া, মোটর এবং মোটর সাইকেল চালনা প্রতিযোগিতা, টেনিস, পাত্তাইয়া পার্কে গমন, পানি পার্কের আনন্দ উপভোগ, পাত্তাইয়া হাতির খোঁয়াড় পরিদর্শন, নং নুচ গ্রাম পরিদর্শন, অর্কিড নার্সারী পরিদর্শন, শিল্পকলা কেন্দ্র পরিদর্শন এবং সাংস্কৃতিক প্রদর্শন উপভোগ করতে পারেন। আপনি যেকোন কিছু কেনার জন্য বের হতে পারেন।

পাত্তাইয়া আসতে আপনাকে ১৪৭ কি.মি. ভ্রমণ করতে হবে, হাইওয়ে ধরে দুই ঘন্টা, সেসাথে বাং পাকং চোন বুরি এবং সিরাচার মধ্যে দিয়ে ভ্রমণ করতে হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও অনিয়ন্ত্রিত সব রকম বাসেই চড়তে পারেন।

পাত্তাইয়ায় রাতের জীবন

সূর্যাস্তের পরে আপনি পাত্তাইয়ার নিশি জীবনের শব্দ ও দৃশ্যের জন্য ব্যাকুল হতে পারেন। আপনি কোন লোভনীয় রেস্তোরাঁয় খেতে অথবা কোন নাইট ক্লাব বা হোটেল লাউঞ্জে বসে ককটেল পান করতে পারেন। আপনি কোন সাপার ক্লাবে যেতে পারেন যেখানে আমোদ-প্রমোদ ও সঙ্গীতের ব্যবস্থা আছে সেসাথে আছে খাদ্য ও পানীয়। এটা একটা আদর্শ পরিকল্পনা যদি আপনার পরিবার আপনার সাথে থাকে।

আপনি কোন ম্যাসেজ পারলারে যেতে পারেন বিশ্রামের জন্য অথবা পাত্তাইয়ার গো গো বারেও যেতে পারেন। এগুলি আপনি পাত্তাইয়ার সাগর সৈকতের দক্ষিণে পাবেন।

আপনি যদি সমুদ্র নিবাসে থাকাকালীন ড্রাইভে যেতে চান তাহলে মোটর সাইকেল, জীপ অথবা দৈনিক ভিত্তিক কার ভাড়া করতে পারেন। মিনি বাসগুলি সৈকতের রাস্তা ও পাত্তাইয়া ২ রোডের মধ্যে সার্কিট ড্রাইভিং করে। এর জন্য মাত্র পাঁচ কি দশ বাথ খরচ হয়।

পাত্তাইয়ার মানচিত্র


পাত্তাইয়ায় থাকবার ব্যবস্থা

পাত্তাইয়ায় প্রচুর হোটেল ও প্রমোদ নিবাস রয়েছে। সবচেয়ে ভাল কয়েকটি হলো জমটিয়েন বীচে অম্বাসাডর সিটি রিজোর্ট অথবা রয়্যাল ক্লিফ বীচ রিজোর্ট।

আপনার যদি পর্যটন সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে থাইল্যান্ডের পর্যটন কর্তৃপক্ষের বীচসাইড অফিসে যেতে পারেন। এটা বীচ রোডের ৩৮২/১ এ অবস্থিত যা ট্যুরিস্ট পুলিশ সেন্টারের পরেই। এই অফিস আপনাকে ভ্রমণ তথ্য ও ট্যুরিস্ট পাবলিকেশন সরবরাহ করতে পারবে। যদি পাত্তাইয়া ভ্রমণের সময় জরুরী কোন পরিস্থিতির শিকার হন তাহলে পাত্তাইয়া ট্যুরিস্ট পুলিশ দ্রুত আপনাকে সহায়তার ব্যবস্থা নেবে। 

==============================================
 

ফুকেত ভ্রমণ নির্দশিকা

ফুকেত ভ্রমণ নির্দশিকা থাইল্যান্ডের বৃহত্তম দ্বীপ হলো ফুকেত। এটা ব্যাংককের ৮৭০ কি.মি. দুরে অবস্থিত। এখানকার প্রধান র্তানী দ্রব্য হলো টিন ও রাবার। এই দ্বীপ সামুদ্রিক জীবন দ্বারা জীবনপ্রাপ্ত। থাও থেপ কাসাত্রি এবং থাও সিসুনথন প্রতিমুর্তি এই দ্বীপের ভূ-চিহ্ন হিসেবে চিহ্নিত।

ফুকেট একটা সুন্দরতম দ্বীপ যার আছে খাড়ি, উপসাগর, পাম ঘেরা সাদা সমুদ্র সৈকত, দ্বীপঘন সাগর, বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ, সুন্দর থাকার ব্যবস্থা, দারুন সামুদ্রিক খাবার, রাজকীয় পাহাড়, আয়েশী জলপ্রপাত এবং অনেক সামুদ্রিক পার্ক। অন্য কথায় অবকাশ যাপনের মধুর স্মৃতিসম্ভার তৈরীতে ফুকেতের মতো সুন্দরতম জায়গা আর হয়না ।

ফুকেতে অবস্থানকালে আপনার পরিবারকে ব্যস্ত রাখার জন্য এখানে অনেককিছু দেখার ও করার আছে। এখানে এসে যদি সক্রিয় হতে না চান তাহলে আপনি সাদা বালির উপরে বিশ্রাম নিতে পারেন।

আপনি সুরিন বীচে নয় হোলের গল্ফ কোর্সে গল্ফ খেলতে পারেন যেখানে সাঁতার কাটা সম্ভব নয় তরঙ্গভঙ্গ ও ঢেউয়ের পশ্চাত টানের কারনে। সবচেয়ে উন্নত বীচ হলো পাতং বীচ যা আপনার আমোদ প্রমোদের জন্য যথেষ্ট। নাইট ক্লাব থেকে জলক্রিড়ার ব্যবস্থা এখানে আছে যা আপনি আপনার ভ্রমণের সময় উপভোগ করতে পারেন।

ফুকেত ভ্রমণ

ফুকেতে আসার জন্য আপনাকে ১৪ ঘন্টার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস ভ্রমণ করতে হবে যা ফুকেত-ব্যাংককের মধ্যে চলাচল করে। খাওসান রোড থেকে একদম সস্তায় টিকেট পাওয়া যায়। সহজ পদ্ধতি হলো থাই এয়ারওয়েজে অথবা এয়ার এশিয়ায় যাওয়া যা মাত্র ১ ঘন্টা ১০ মিনিট সময় নেয়। দৈনিক অন্ততঃ পাঁচবার এই ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ফুকেতে যাওয়ার কোন ট্রেন সার্ভিস নেই।

ফুকেতে থাকবার ব্যবস্থা

একবার এসে পড়লে নিশ্চয় আপনার থাকবার প্রয়োজন হবে। ফুকেতে হোটেল ও প্রমোদ নিবাসের মধ্যে আছে আমানপুরী ফুকেত, সেন্ট্রাল ওয়াটারফ্রন্ট সু¨ট্‍স হোটেল ফুকেত, দি চেদি ফুকেত, দি দুসেত লাগুনা রিজোর্ট হোটেল ফুকেত এবং লি রয়্যাল মেরিডিয়ান ফুকেত, ইয়ট ক্লাব ফুকেত এগুলো হলো প্রথম শ্রেণীর যা আপনাকে ফুকেত শহরে ফ্রী যানবাহনের ব্যবস্থা করবে। সাশ্রয়ী শ্রেণীর থাকার জায়গাও রয়েছে। আপনি যদি প্রথম শ্রেণীর হোটেলে থাকেন তাহলে কেবিন ও বাংলো কমপ্লেক্স পেতে পারেন। আপনার যদি প্রথম শ্রেণীতে থাকার সামর্থ্য না থাকে তাহলে আপনি স্থানীয় স্টাইলের কমপ্লেক্সে থাকতে পারেন যেগুলি বাঁশ, রত্তন ও খড়ের তৈরী।

ফুকেতের সমুদ্র সৈকতসমূহ

বিভিন্ন সৈকতের বিভিন্ন নিজস্ব বৈচিত্র রয়েছে। প্রথমটি হলো মাই খাও যা এখানকার দীর্ঘতম সৈকত। পরবর্তী সৈকত হলো নাই ইয়াং। এটা একটা বিশাল সমুদ্র সৈকত সাতার কাটা ও বিশ্রাম নেয়ার জন্য। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারীর মধ্যে সামুদ্রিক কচ্ছপগুলি ডিম দেয় এখানে ডিম দেয়। আপনি যদি সমুদ্র থেকে ভিতরের দিকে অগ্রসর হন তাহলে দেখতে পাবেন ওয়াত ফ্রা থং যেখানে আপনি আংশিক সমাধিপ্রাপ্ত সংরক্ষিত বুদ্ধমুর্তি রয়েছে।

পরবর্তী দুইটি সৈকত হলো কারন ও কাটা। এগুলি খুবই শান্তিপূর্ণ সাগর সৈকত আপনাকে সম্পূর্ণ সূর্যালোকে সাঁতার কাটা, স্নরকেলিং ও রৌদ্রস্নান করার সুযোগ দেবে। কাটাতে কিছু অংশ জুড়ে আছে ক্লাব মেডিটারেনিয়ান। সাদা নাই হান সৈকত ফুকেতের দক্ষিনাংশ জুড়ে রয়েছে। আপনি এই সমুদ্র সৈকতে জলক্রিড়া করতে পারেন অনায়াসে। প্রমথেপ অন্তরীপ একটা দেখার মতো জায়গা। এখানে সূর্যাস্ত দেখা যায় কারণ এটা সমুদ্র সৈকতের একদম দক্ষিণে অবস্থিত।

সর্বশেষ সৈকত হলো রাওয়াই যেখানে আপনি আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এখানে অনেক উপকুলবর্তী দ্বীপ আছে যেগুলির সুন্দর সাদা সৈকত আছে। আপনি এখানে পানির নীচের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন যেগুলি স্কুবা ডাইভার ও জেলেদের আকর্ষণ করে।

ফুকেতের মানচিত্র


ফুকেতের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী

সমুদ্র ছাড়াও ফুকেতে অনেক প্রাকৃতিক স্থান রয়েছে উপভোগ করার মতো যেমন আছে টন সাই জলপ্রপাত, ফরেস্ট পার্ক এবং খাও ফ্রা থায়ে বন্যপ্রাণী পার্ক যেখানে আপনি পাখি, ভল্লুক এবং বানর সেসাথে জলপ্রপাত ও গাছপালা দেখতে পাবেন। যদি উত্তর পূর্ব দিকে যান তাহলে দেখতে পাবেন চালং বে যেখানে ওয়াত চালং এ বৌদ্ধ সন্নাসীদের প্রতিমূর্তি সংরক্ষিত আছে। আর যদি দক্ষিণে যান তাহলে আপনি পৌছে যাবেন ফানওয়া অন্তরীপে যেখানে একটা মেরিন বায়োলজি রিসার্চ সেন্টার আছে আর আছে অ্যাকুয়ারিয়াম নানা জাতের সামুদ্রিক প্রাণী।

যদি সাগর সৈকতে বেশী আকর্ষণ বোধ করেন তাহলে দেখার মতো আরও বিষয় আছে। আপনি হোটেল ও কফি শপ ভিজিট করতে পারেন। দ্বীপে থাই, চীনা আর ইসলামী খাবার পাবেন। ফুকেতে পাওয়া সামুদ্রিক খাদ্য থাইল্যান্ডে পাওয়া সব সীফুডের মধ্যে সেরা। থাইল্যান্ডের দক্ষিণের খাদ্য মশলাদার কিন্ত্ত মজাদার। যদি আরও প্রাকৃতিক খাবার খেতে চান তাহলে দ্বীপে যেসব ফলমুল পাওয়া যায় সেগুলির স্বাদ নিতে পারেন। এখানে আনারস ও নারকেল জন্বায়।

যদি রোদে সময় কাটানোর মুডে না থাকেন তাহলে কেনাকাটার জন্য বের হতে পারেন। বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার মতো অনেক সুন্দর সুন্দর হস্তশিল্প এখানে পাওয়া যায় ঝিনুক ও কোরাল অলংকার এমনকি চাষ করা মুক্তো। রাতে সবকিছু নিস্তব্ধ থাকে যদি না আপনি শহরে এবং পাতং বীচ রেস্তোরাঁয়, বারে বা অন্যান্য জায়গায় সন্ধ্যায় যেগুলি খোলা থাকে সেখানে অবস্থান করেন।


চীনে ভ্রমণের ভিসা সম্পর্কে

চীনে ভ্রমণ করতে হলে আপনাকে প্রথমে ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে।বিদেশী বন্ধুরা যদি চীনে ভ্রমণ করতে চান তাহলে তাদের চীনের দূতাবাস অথবা কনস্যুরাটে গিয়ে পর্যটন ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে।৯ জনের বেশী লোক নিয়ে গঠিত পর্যটন দল দলগত পযর্টন ভিসার আবেদন করতে পারে।যারা চীনের সেনজেন, জুহাই আর শামেন ইত্যাদি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যেতে চান তারা সোজাসুজি উল্লেখিত অঞ্চলের বন্দরে ভিসা অফিসের কাছে বিশেষ প্রশাসন অঞ্চলের ভিসার আবেদন করতে পারেন।হাইনান প্রদেশে ভ্রমণ করতে গেলে ওখানে ১৫ দিনের বেশী সময় থাকতে পারেন না।হাইখো অথবা সেনয়া স্থল বন্দরে সাময়িকভাবে প্রবেশ-ভিসার ব্যবস্থা করা যায়।হংকংএ বসবাসরত বিদেশীরা দল গঠন করে সেনছেন বিশেষ প্রশাসন অঞ্চলে ভ্রমণ করতে আসলে ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রবেশ-ভিসার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন নেই।পর্যটন ভির্সারঅধিকারী বিদেশীরা যখন চীনে প্রবেশ করেন তখন তারা বিদেশীদের প্রতি উন্মুক্ত স্থল বন্দর অথবা নির্দিষ্ট স্থল বন্দর দিয়ে প্রবেশ করতে পারেন । প্রবেশ করার আগে সীমান্তের পরীক্ষা মহলের পরীক্ষা তাদের গ্রহণ করতে হবে। 
  আপনরা বলবত পাসপর্ট আর পর্যটন ভিসা নিয়ে চীনে বিদেশীদের কাছে বিশেষভাবে উন্মুক্ত জায়গায় ভ্রমণ করতে পারেন।চীন সরকার চীনে অবস্থানরত বিদেশীদের বৈধ ক্ষমতা ও স্বার্থ রক্ষা করে, তবে চীনে ভ্রমণ করতে পযর্টন ভির্সা অধিকারী বিদেশীরা নিজের পরিচয়ের অবাঞ্জিত তত্পরতা চালাতে পারে না।যেমন , কর্মস্থানে যোগ দেয়া, ধর্ম প্রচার করা, অবৈধ সাক্ষাতকার নেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি, নইলে শান্তি দেয়া হবে।এর সঙ্গে সঙ্গে চীনে থাকাকালে আপনাকে চীনের আইন মেনে চলতে হবে এবং চীনের রীতিনীতিকে সম্মান দিতে হবে।

  ভিসাতে অনুমোদিত চীনে অবস্থানের মেয়াদ অনুযায়ী আপনি চীনে ভ্রমণ করতে পারেন।যদি অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চীনে আরো ভ্রমণ করতে চান , তাহলে চীনে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আপনি স্থানীয় প্রকাশ্য নিরাপত্তা সংস্থার কাছে আবেদন করতে পারেন। আপনার ভ্রমণ শেষ হওয়ার পর , ভিসা বলবত সময় শেষ না হোওয়া পর্যন্ত বিদেশীদের কাছে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর থেকে আপনাকে চীন ত্যাগ করতে হবে।
SOURCE LINK 

এই গরমে ভ্রমন করুন দার্জিলিং

আবু রায়হান (টুডে বিডি নিউজ) : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অনন্য সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র দার্জিলিং। এটি বাংলাদেশীদের কাছে অতি পরিচিত একটি নাম। বাংলাদেশের অতি নিকটে, অল্প আয়েশ, অল্প ব্যায়ে ভ্রমণের এক আদর্শ স্থান হচ্ছে দার্জিলিং। বোধকরি বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রথম পছন্দের নাম দার্জিলিং। ৮,৫৯৮ মিটিার (২৮,২০৯) উচ্চতার today bd news-darjalingপৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যোদয় বহু বর্ণিল আলোকচ্ছাটার অপার্থিব রূপ দেখতে তাই মানুষের এত আকর্ষণ। এই জেলার ইকো ট্যুরিজমের অন্যতম পীঠস্থান। শিলিগুড়ি, কালিম্পং, কার্শিয়া, জলঢাকা, গৌরবাথানা, জোড়বাংলো, মিরিক, নক্সালবাড়ি, প্রধাননগর, খুখিয়াপোখরি এই জেলার বিখ্যাত জায়গা। দার্জিলিং বেড়াবেন বিভিন্ন পয়েন্টে সময় রুট বিবেচনা করে। দার্জিলিং শহর ও তার আশাপাশের ভ্রমণ কেন্দ্রগুলো ভাগ করা হয়েছে বিভিন্ন পয়েন্টে। যেমন টু পয়েন্টে বলতে গাঙ্গামায়া পার্ক ও রক গার্ডেন ভ্রমণ। থ্রি পয়েন্টে ভাগ করা আছে কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যোদয় দেখার জন্য টাইগার হিল, বিখ্যাত ঘুম বৌদ্ধ মন্দির ও বাটাশিয়া পুল। ফাইভ পয়েন্টের অন্তুর্ভূক্ত স্পটগুলো হচ্ছে জাদুঘর, জাপানি মন্দির, লালুকুঠি (কাউন্সিল ভবন), আভা আর্ট গ্যালারি এবঙ রীরধাম মন্দির ইত্যাদি। সেভেন পয়েন্ট বলে পরিটিত স্তানগুলো হচ্ছে, পদ্মজা নাইডু  জ্যুওলজিক্যাল পার্ক, বিখ্যাত হিমালয়ান মাউনেইরয়ান ইনস্টিটিউট, রোপ ওয়ে, পর্ততারোহণ স্বাদ পেতে, বিশাল এক পাথরে ওঠানামার জন্য তেনজিং রক, চা বাগান, পর্বতরোহণস্বাদ পেতে, বিশাল এক পাথরে ওঠানামার জন্য তেনজিং রক, চা বাগান, তিবক্ষতী রিফুজি ক্যাম্প এবং সস্তশিল্প প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র, চারদিকে সুউচ্চ উপত্যাকার মাঝে সমতল মাঠ, দার্জিলিং গুর্খা স্টেডিয়াম ইত্যাদি।d7
ম্যাল এলাকা:-দার্জির্লিংয়ের সবচেয়ে জমজমাট ও নানা পর্যককদের মিলনমেলা বসে ম্যাল এরাকায়। চারদিকে সু উচ্চ পাহাড়ের মাঝে একটুখানি সমতল এলাকা। আয়োজনও চমৎকার সমগ্র ম্যাল এলাকা রেলিং দিয়ে বেষ্ট করা আছে। ছোট ছোট বেঞ্চি রয়েছে বিশ্রাম ও আড্ডা দেয়ার জন্য। ম্যাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে  হোটেল , ট্যুরিস্ট লজ , বিভিন্ন দ্রব্যের দোকান , রেস্তোরাঁ, ব্যাংক আরও কত কী। স্টুডিওতো আছেই, সেই সাথে পাবেন ক্যামেরা নিয়ে এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়ানো পেশাদের ফটোগ্রাফার। ইচ্ছা করলে আপনার পছন্দের আলোকচিত্রটি পেশাদের আলোকচিত্রীকে দিয়ে তুলে নিতে পারেন।
নাইটিঙ্গেল  পার্ক:- ম্যাল চত্বর ছাড়িয়ে  আরও কিছু দূর উঁচু নিচু  পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে আপনি  পোছে যেতে পাবেন নইটিঙ্গেল পার্কে। দার্জিলিং ভ্রমণ বিনোদনের খুব বেশি দিন হয়নি এ পার্কটি সংযোজনের। ইজারো পাখির কলকাকলি, উঁচু স্থান থেকে সশব্দ গড়িয়ে পড়া ঝর্ণার পানির বর্ণিল আলোকচ্ছাটা এবং পুরো পার্কটিকে এমন সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, যা সত্যিই মনোমুদ্ধকর। পাখির কলককালি শুনে ভবছেন পাকি কোথায়? একটু লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন পাখির এ কলতান সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিমভাবে। নাইটিঙ্গেল পার্কের সবচেয়েবড় আকর্ষণ হচ্ছে স্থানীয় গুর্খা জাতিসত্তার নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে d2তুলে দরে নাচ ও গানের অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানের শেষ পর্ব ইচ্ছে উপস্থিত অতিথিদের অংশগ্রহণে নাচ ও গান। সবমিলিয়ে দারুন উপভোগ্য এক সন্ধ্যা কাটিয়ে আসতে পারেন নাইটঙ্গেল পার্কে। দপ¥জা নাইডু হিমালয়ান জ্যুওলিজিক্যাল পার্ক ম্যাল চৌরাস্তা থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে জহর পর্বতের গায়ে এ পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের উদ্ধীদ ও প্রাণীবৈচিত্র্যের বেশ কিছু নমুনা রয়েছে এ জ্যুওলিকিক্যাল পার্কটিতে। এর মধ্যে জানা-অজানা বিচিত্র ও দুর্লভ গাছ-গাছালী ছাড়াও আপনি দেখতে পাবেন মিসুলয়ের অতিকায় কালো ভল্লুক, সাইবেরিয়ান বাঘ, তিব্বতের হিংস্রতম নেকড়ে গন্ডার, সাম্বার ও চিত্রা হরিণ, ইলামা হায়না লাল পান্ডা এবং নানা রঙ্গ আকৃতির বহু প্রজাতির পাখি।
হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট:-পদ্মজা নাইডু জ্যুওলজিক্যাল পার্ক ও হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট একই গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণের জন্য এ প্রতিষ্ঠানটির বেশ খ্যাতি রয়েছে। এখানকার মিউজিয়ামে আপনি পৃথিবীর প্রথম দুই পর্বতারোহী তেনজিং ও হিলারি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ঘটনাবহুল ও বিখ্যাত সব পর্বতারোহী ও আরোহণের তথ্যবহুল প্রদর্শনী যেমন দেখবেন, তেমনি আপনি দেখতে পাবেন পর্বতারোহনের তথ্যবহুল প্রদর্শনী যেমন দেখবেন, তেমনি আপনি ধেকতে পাবেন পর্বতারোহণের জন্য প্রয়োজনীয় সাজ সরঞ্জাম ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের প্রদর্শনী।
হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেন:-উঁচু পাহারের অপরূপ উপত্যকায় গড়ে তোলা হয়েছে চা বাগান। এ বাগানে এসে গাছ থেকে চা পাতা তোলা থেকে শুরু করে চা তৈরির যাবতীয় কলাকৌশল দেখে নিতে পারেন।
টাইগার হিল:-শেষ রাত থেকে অসংখ্য জিপের সারি ও মানুষের কোলাহলে পূর্ণ হয়ে উঠে টাইগার হিল। দার্জিলিং শহর থেকে ১৩ কিমি দূরে অবস্থিত টাইগার হিল কাঞ্চনজঙ্খায় সূর্যোদয় দেখার ভিউপয়েন্ট হিসেবে খ্যাত। সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ২৫৫৫ মিটিার উঁচুতে টাইগার হিলের ভিউপয়েন্ট থেকে পৃথিবীর ৩য় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্রবরফের রাজ্যে সূর্যের প্রতিফলনে বহু বর্ণিল আলোর ঝালকানি দেখার জন্য টাইগার হিলে আপনাকে আসতেই হবে। পরিস্কার আকাশ থাকলে টাইগার হিল থেকে পৃথিবীর সবোচ্চ সৃঙ্গ এভারেস্টও দেখা যায়। দার্জিলিংয়ে বেড়াতে যাবেন কিন্তু ট্রয় ট্রেনে চড়বেন না তা কী হয়? পাষ্পীয় ইঞ্জিনচালিত ন্যারো গ্যাজ লাইন দিয়ে উচ্চ পাহাড় পর্বতের কিনারা দিয়ে যখন টেওনটি চলতে থাকে এর মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞাতা আর কী হতে পারে? ট্রয় ট্রেন জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত যাতায়াত করলেও দীর্ঘ পথের সময় বাঁচাতে  আপনি দার্জিলিং থেকে ‘ঘুম’  স্টেশন পর্যন্ত ভ্রমণ করে বিশ্ব ঐতিহ্য এ ট্রয়  ট্রেনের কিছুটা রোমাঞ্চের স্বাদ পেতে পারেন।
রক গার্ডেন:-দার্জিলিং থেকে ১০ কিমি দূরে অবস্থিত রক গার্ডনে কলকল ধ্বনিতে প্রবাহিত হচ্ছে প্রাকৃতিক জলপ্রপাত। পাহাড়ের গা ঘেঁষে অনেক উঁচুতে উঠে গেছে কৃত্রিমভাবে তৈরি সিঁড়ি। বেশ সাজানো-গোছানো আয়েজন দেখতে পাবেন রক গার্ডেন এসে। পিকিনিক স্পট ডহিসেবে এটি বিখ্যাত।
গাঙ্গামায়া পার্ক:-রক গার্ডেন থেকেআরও ৩ কিমি দূরে বিশাল এক জলপ্রপাতকে কেন্দ্র করে বেশ বড় এলাকা জুড়ে গড়ে তোলে হয়েছে গাঙ্গামায়া পার্ক। পার্কের ভেতর লেকে নৌকা ভ্রমণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে অদিবাসীদের পরিবেশিত নাচ ও গানের ব্যবস্থা। স্থানীয়দের তৈরি হস্তশিল্প দোকান, খাবার ব্যবস্তা সবই আছে এখানে।
দার্জিলিং যেভাবে যাবেন:-ঢাকা থেকে দার্জিলিং যাওয়া এখন অনেক সহজ হয়েছে। বাসযোগে লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি থেকে জিপযোগে দার্জিলিং। দার্জিলিং তেকে প্রত্যেকটা দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে জিপ ব্যাবহার করতে হবে। দার্জিলিংয়ে বিভিন্ন মানের হোটেল হচ্ছে।
তারকামানের হোটেল দি নিউ এলগিন হোটেল, মে ফেয়ার হিল রিসোর্ট, ইত্যাদি এছাড়া হোটেল গারুদা, হোটেল সান ফ্লাওয়ার, হেপাটেল উমা, হোটেল স্বাতী, হোটেল ব্রডওয়ে ইত্যাদি বিভিন্ন মানের হোটেল গোটা শহরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ভ্রমনের উপযুক্ত সময়:-পুর্ণিমার রূপ যেমন অপার্থিব আনন্দ দেয়, তেমনি আধারেরও তো রূপ আছে! পরিস্কার মেঘহীন আকাশে দার্জিলিং যেমন তার রূপের ঐশ্বর্য মেলে ধরে তেমনি বর্ষার সবুজ পাহাড় ও বিশাল ঝরনাধারা অন্যরূপ দেখতে পাবেন। হিসেম্বর – জানুয়ারী শীতের তীব্রতার পাশাপাশি হয়তো তুষারপাতেরও দেখা পেতে পারেন। সমতলের মানুষের জন্য তুষারপাত দেখা দারুণ আনন্দের ব্যাপার বৈকি! দার্জিংলিং ভ্রমণের সবচেয়ে আদর্শ সময় হচ্ছে মার্চ থেকে মে মাস এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস।

বেড়ানোর স্বর্গরাজ্য ভুটান

আবু রায়হান (টুডে বিডি নিউজ) : ‘ল্যান্ড অফ দ্য পিসফুল থান্ডার ড্রাগনস’ ভুটান বেড়ানোর স্বর্গরাজ্য। উঁচু পর্বতমালা, ঘন বনজঙ্গল, সবুজ ভ্যালি এবং সনাতন সংস্কৃতি ভুটানের ঐতিহ্য। ভুটান পৃথিবীর একমাত্র সনাতন  ধর্মরাষ্ট্র। সেখানে সকল আইনকেই ঈশ্বরের আইন বলে ধরে নেয়া হয়। ভুটানের মোহময় প্রকৃতি এবং টুরিস্ট অ্যাট্রাকশন উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। today bd news-vhutanসব মিলিয়ে ভুটান এমন এক অভিজ্ঞতা যা আপনি পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাবেন না। ভুটানের সব থেকে আকর্ষন এর রাজধানী থিম্পু। থিম্পু নদীর তীরে সিলভান ভ্যালিতে অবস্থিত থিম্পু শহর ট্রাডিশনাল এবং এমনিক ভুটানিজ কলা, স্থাপত্যশিল্প, সংস্কৃতির পীঠস্থান। ফিম্পুর ইউনিক ফ্লেভার আপনাকে বার বার এখানে আসতে বাধ্য করবে।
কী দেখবেন :-সিমতোখা জং-১৬২৭ সালে তৈরি এই জঙ্গ থিম্পু ভ্যালির গেটওয়ে। থিম্পুর সব থেকে পুরোনো এই জংয়ে আছে রিগনে স্কুল ফর জঙঘা অ্যান্ড মোনস্টি স্টাডিস। ফ্রেশকো এবং স্লেট কাভিংস সিমতোখার বিশেষ আকষর্ণ। থিম্পু জং  ফোট্রেস অফ দ্যা গ্লোরিয়াস রিলিজিয়ন)- ১৬৬১ সালে তৈরি এই জং থিম্পু শহরের প্রাণকেন্দ্র। এখানে আছে প্রধান সরকারি ডিপার্টমেন্ট, দ্য ন্যাশনাল অ্যাসেস্বণিল, রাজার থ্রোন রুম এবং সেন্ট্রাল মনস্টিক বড়ির গ্রষ্মকালীন হেডকোয়ার্টাস।
 মেমোরিয়াল কর্টেন:- ভুটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দরজি ওয়াঙ্গচুকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৭৪ সালে এই দস্তুপ তৈরি করা হিেছল। ভিতরের বিভিন্ন পেন্টিং এবং স্ট্যাচু বৌদ্ধ ফিলোজফির রিফ্লেকশন। থিম্পুর উইকএন্ড  মার্কেট পায়ে পায়ে থিম্পুর রাস্তা ঘুড়ে বেরানো অভিজ্ঞাতা তুলনা হয় না। বিশেষ করে উইকএন্ড মার্কেট যেতে ভুলবেনা।
থিম্পু-পুনাখা:- দোচুলা পাস হয়ে ড্রাইভ করে পৌছানো যায় থিম্পু থেকে ৭০ কিমি দূরে অবস্থিত পুনাখায়। আকাশ পরিস্কার থাকলে ৩০৫০ মিটার উচু এই পাস থেকে পুরো হিমালয়ান রেঞ্জ দেখা যায়। পুনাকা ভুটানের সব থেকে উর্বর ভ্যালি। দেখে নিন ফো ছু এবং মো  ছু নদী এবং অবশ্যই পুনাখা জং । এছাড়া ন্যশনাল লাইব্রেরি, হ্যান্ডিক্রাফট এস্পোরিয়ান, পেন্টিং স্কুল এবং ট্র্যাহিশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটও দেখে আসেতে পারেন। Natural-Scenery-Bhutan
পারো:- থিম্পু ছাড়া ভুটানে আরও অনেক আকর্ষণীয় জায়গা। প্রথমে আলাপ করে নিতে পারেন হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট শহর পরোর সঙ্গে। পারো জুড়ে আছে নানরকম গল্পকথা। এবং এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য না ভোলার মতো। বিশেষ করে বসন্ত ঋতুতে পারোর রূপ দেখার মতো। পারোতে দেখা নিন পারো জং, ন্যশনাল মিউজিয়াম তবে পরোর সব থেকে বড় আকর্ষণ টাইগার্স নেস্ট। এই মনাস্ট্রি  পরো থেকে ৮০ কিমি দুরে একটি ক্লিফের উপর অবস্থিত। হেটে ওঠার ফথটিও খুব সুন্দর। ভুটান ট্যুরিজম এখানে একটি সুন্দর কফি হাউজ তৈরি করে দিয়েছে। পরোতে থাকার ব্যবস্থা অবশ্য কম। ভুটান ট্যুরিজমের একটিমাত্র হোটেল আছে, সুতরাং আগে থেকে বুকিং করে নেয়া দরকার।
বুমথাং:- ভুটানের অধ্যাত্মিক হার্টল্যান্ড অবশ্য বুথমাং। ভুটানের সব থেকে গুরুত্বপূর্ন জং, মন্দির এবং মহল এখভানে অবস্থিত। দেখে নেবেন ওয়াংগডিচোলিং প্যালেস, জাম্বে লাখাং মন্দির এবং সব থেকে বড় ভুটানিজ জং জাকার পাশাপাশি হেটে দেখে নিন ইট স্প্রিং এরিয়া। জার্নি শক্ত হলেও পথ খুব সুন্দর। এই এলাকায় ব¯œুশিপ, মাস্ক ডিয়ার, হিমালয়ান ভাল্লুক চোখে পড়াতে পারে। বুথথাংয়ে একমাত্র জাকারেই ভালো রেস্তরাঁ পাবেন।
চেকলিস্ট ভুটান
কীভাবে যাবেন:- ঢাকা থেকে ড্রুক এয়ার-এ সরাসরি পৌছে যাবেন পারোতে। সময় লাগবে এক ঘন্টা। পারো থেকে ফিম্পু যাওয়ার জন্য রয়েছে অজ¯্র প্রাইভেট ট্যাক্সিও গাড়ি। বাংলাদেশ থেকে পারোর উদ্দ্যেশে সপ্তাহে দু’দিন এ এয়ারটি ছেড়ে যাচ্ছে।
bhutan-08কোথায় থাকবেন:- পারো ও পুনাখায় তুলনামূলকভাবে ভালো হোটেলের সংখ্যা  কম। থিম্পুতে হোটেলের সংখ্যা খুব একটা বেশি না হলেও থাকার অসুবিধে হয় না। পাইনউড  হোটেল বা রিভারভিয়্যু হোটেলে থকতে পারেন। বেশিরভাগ হোটেলে অপনি সমস্ত অধুনিক ফেসিলিটিস পাবেন। ভুটানিজ স্টাইল ফলো করে তৈরি এই হোটেলগুলোতে পেয়ে যাবেন এথনিক গ্রামে থাকার ফ্লোভার।
খাওয়াদওয়া:- এখানে নিরামিষ খাবারের প্রচলন বেশি। ডার্টসি (গরুর দুধের চিজ) এবং এমা ডার্টসি (গলানো চিজে রান্না করা লাল লল্কা) এখানকার কিছু পছন্দ সই খাবার।
কেনাকাটা:- হ্যান্ডিক্র্যাফট এম্পোরিয়াম থেকে বিভিন্ন সুভ্যেনির কিনতে পারেন। মা¯, প্রোয়ার হুইল, ডেকোরেটিভ মোটিফ, সিল্ক এবং উলের জামাকাপড় এখানকার হেরিটেজের অংশ।
কখন যাবেন:- অক্টোবর এবং নভেম্বর ভুটান যাওয়ার সব থেকে ভালো সময়।

ভ্রমণ যখন দার্জিলিংয়ে

একবার ভাবুন, আপনি ছুটছেন পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে। জিপের ভেতর দাঁত কামড়ে বসে আছেন। পাল্লা দিয়ে চলছেন মেঘের সাথে। মেঘগুলো কখনো জিপের এক পাশের জানালা দিয়ে ঢুকছে। আর বের হচ্ছে অন্য পাশ দিয়ে। আপনি ছুটছেন প্রায় সাত হাজার ফুট উচ্চতার এক শহরের উদ্দেশে। বলছি দার্জিলিংয়ের কথা। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ছবির মতো সুন্দর স্বপ্নপুরী এই দার্জিলিং।
কিভাবে যাবেন?
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিভোর নগরী পাহাড়ে ঘেরা অপূর্ব চিরহরিৎ ভূমির দার্জিলিংয়ে স্থলপথে রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি দার্জিলিং যেতে চাইলে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারি সীমান্ত অতিক্রম করে যাওয়াটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকার গাবতলী থেকে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। মতিঝিল থেকে ভারতের শিলিগুঁড়ি পর্যন্ত যায় শ্যামলী পরিবহণের গাড়ি। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস থেকে পাসপোর্টে নির্দিষ্ট সময়ের ভিসা নিয়ে রাত ১০টার সুপার সেলুন চেয়ার কোচে উঠে পড়–ন বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। ভাড়া জনপ্রতি আর কত সামর্থের মধ্যেই। ভোর ৭টা নাগাদ আপনি অনায়াসে পৌঁছে যাবেন বুড়িমারী চেকপোস্টে। ইমিগ্রেশন অফিসের কাছেই সব বাস থামে। প্রাতঃরাশ সম্পন্ন করে ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির সাথে সম্পন্ন করে নিন ভ্রমণ কর ও কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া। অবশ্য আপনি চাইলে ঢাকা থেকেই ভ্রমণ কর প্রদান করে যেতে পারেন সোনালী ব্যাংকের যে কোনো শাখায়। বুড়িমারী অতিক্রম করে ওপারে চ্যাংড়াবান্দা সীমান্তে পৌঁছে একইভাবে সম্পন্ন করে নিন আপনার ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া। ও ভালো কথা, আপনার বহনকৃত ইউএস ডলার চ্যাংড়াবান্দায় অবস্থিত সরকার অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকেই ভারতীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করে নেবেন। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে টাকা ভাঙাতে আপনাকে বেশ বেগ পেতে হবে।
চ্যাংড়াবান্দা থেকে সরাসরি ময়নাগুড়র বাস ধরে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন শীর্ষেন্দু-সমরেশের উপন্যাসখ্যাত শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে। ভাড়া জনপ্রতি ৭০ ভারতীয় রুপি। সেখান থেকে ঝটপট ১২০ ভারতীয় রুপির বিনিময়ে সংগ্রহ করে নিন দার্জিলিংগামী কমান্ডার জিপের টিকিট। হাতে শীতের পোশাক নিয়ে বসে পড়ুন আপনার নির্ধারিত আসনে। ব্যস, মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় আপনি পৌঁছে যাবেন মেঘের দেশ স্বপ্নিল ভুবনের দার্জিলিংয়ে।
তাছাড়া কলকাতা থেকে যেতে চাইলে আপনাকে শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দার্জিলিং মেল ধরতে হবে। টিকিট সংগ্রহ করবেন ট্যুরিস্টদের জন্য নির্ধারিত কাউন্টার ফেয়ারলি প্যালেস থেকে। অতঃপর প্রায় ৫৭৬ কিলোমিটার অর্থাৎ ১৪ ঘণ্টার এক ট্রেন ভ্রমণ করে পরদিন সকাল ১০টা নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছে যাবেন। স্টেশন থেকে প্রাতঃরাশ সম্পন্ন করে রিকশাযোগে চলে আসুন শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে। ১০-১২ রুপি ভাড়া পড়বে। সেখান থেকে ওই কমান্ডার জিপে চড়ে পৌঁছে যেতে পারেন স্বপ্নপুরী দার্জিলিংয়ে।
কোথায় থাকবেন?
পুঞ্জীভূত মেঘের কণা ভেদ করে আঁকাবাঁকা পথের ধারে পুরো দার্জিলিং শহরে রয়েছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোটেলে প্রতিদিনের থাকা এবং খাওয়াসহ জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৮৫০-১২০০ রুপি করে। প্রায় প্রতিটি হোটেলেই রয়েছে দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘুরে বেড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় জিপ, সার্বক্ষণিক গরম পানির ব্যবস্থা, ঠাণ্ডা প্রতিরোধে ওষুধসহ যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো সমস্যার তাৎক্ষণিক সেবা।
খাবার-দাবার
ট্যুরিস্টদের জন্য হোটেলগুলোতে সব ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে পুষ্টিকর ও রুচিসম্মত খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অসংখ্য ট্যুরিস্টের আগমনের ফলে এখানকার হোটেল মালিকরা বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় একেবারে বাঙালি রুচিসম্মত খাবার-দাবারের জোগান দিয়ে থাকেন। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনার ছাড়াও হোটেল কর্তৃপক্ষ ভোরবেলায় বেড-টি এবং ডিনারের আগে ইভনিং-টি’র ব্যবস্থাও করে থাকেন।
কোথায় বেড়াবেন?
ছোট বড় মিলিয়ে বেড়ানোর জন্য প্রায় ১৭টি আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে দার্জিলিং জুড়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত রেলওয়ে স্টেশন ‘ঘুম’ ছাড়াও আরো যেসব দর্শনীয় স্থান দেখে আপনার আনন্দময় অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে তা হচ্ছে;
সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে অপূর্ব সুন্দর সূর্যোদয় দেখা। পৃথিবীর বিখ্যাত প্রার্থনা-স্থান ঘুম মোনাস্ট্রি। ছবির মতো অপূর্ব সুন্দর স্মৃতিসৌধ বাতাসিয়া লুপ। বিলুপ্ত-প্রায় পাহাড়ি বাঘ স্নো লুপার্ড খ্যাত দার্জিলিং চিড়িয়াখানা। পাহাড়ে অভিযান শিক্ষাকেন্দ্র ‘হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট’। এভারেস্ট বিজয়ী তেনজিং-রক- এর স্মৃতিস্তম্ভ। কেবল কারে করে প্রায় ১৬ কিলোমিটার এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ভ্রমণ।
হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেনে বসে তাৎণিকভাবে পৃথিবীখ্যাত ব্ল্যাক টি পানের অপূর্ব অভিজ্ঞতা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থী কেন্দ্র তিব্বতিয়ান সেলফ হেলপ্ সেন্টার। সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মনোরম খেলাধুলার স্থান দার্জিলিং গোরখা স্টেডিয়াম।
নেপালি জাতির স্বাক্ষর বহনকারী দার্জিলিং মিউজিয়াম। পৃথিবীর বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার জাপানিজ টেম্পল ব্রিটিশ আমলের সরকারি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র কাউন্সিল হাউস ‘লাল কুঠির’ অসাধারণ শৈল্পিক নিদর্শন খ্যাত ‘আভা আর্ট গ্যালারি’। শতবর্ষের প্রাচীন মন্দির ‘দিরদাহাম টেম্পল’।
এসব নিদর্শন ছাড়াও আপনার মনের চিরহরিৎ জগতকে শুধু আনন্দময় নয়, এক নতুন জীবনের যাত্রা শুরু করাতে চলে যেতে পারেন পাথর কেটে তৈরি ‘রক গার্ডেন’ এবং গঙ্গামায়া পার্কে উপরোল্লিখিত দর্শনীয় স্থানগুলো ছাড়াও আপনার হৃদয় গহিন থেকে রোমাঞ্চিত করবে মহান সৃষ্টিকর্তার বিশাল উপহার হিমালয় কন্যা ‘কাঞ্চন-জংঘা’, বিশুদ্ধ পানির অবিরাম ঝর্ণাধারা ‘ভিক্টোরিয়া ফলস্’ এবং মেঘের দেশে বসবাসরত এক সুসভ্য জাতির সংস্কৃতি।
কেনাকাটা
দার্জিলিং শহরের লাডেন-লা রোডের কোল ঘেঁষে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় মার্কেট। দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার্য প্রায় সব জিনিসই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে। সবচেয়ে ভালো পাবেন শীতের পোশাক। হাতমোজা, কানটুপি, মাফলার, সোয়েটারসহ যে কোনো প্রকারের লেদার জ্যাকেট পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দমতো মূল্যে। তাছাড়া ১০০ থেকে ৫০০ রুপির মধ্যে পেয়ে যাবেন অসাধারণ কাজ করা নেপালি শাল এবং শাড়ি যা আপনার পছন্দ হতে বাধ্য। প্রিয়জনকে উপহার দিতে সর্বনিম্ন ২০ রুপি থেকে ২৫০ রুপির মধ্যে পেয়ে যাবেন বিভিন্ন অ্যান্টিক্স ও নানাবিধ গিফট আইটেম, যা আপনার প্রিয়জনের ভালোবাসা কেড়ে নিতে সক্ষম। তাছাড়া আকর্ষণীয় লেদার সু আর বাহারি সানগ্লাস তো আছেই। কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার আশংকা একেবারেই নেই। তবে হোটেলগুলোতে কিছু নেপালি তরুণ-তরুণী ভ্রাম্যমাণ ফেরি করে শাল, শাড়ি বিক্রয় করে থাকে। তাদের কাছ থেকে না কেনাটাই উত্তম।
ঝুঁকি
মানুষের জীবনটাই একটা বড় ঝুঁকি। তার পরেও সাবধানতা অবলম্বন করে ঝুঁকি এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকার প্রয়াস পেয়েছে মানুষ দীর্ঘকাল। দার্জিলিং ভ্রমণেও ছোটখাটো কিছু ঝুঁকি রয়েছে। মাঝে-মাঝেই পাহাড়ি অঞ্চলে ছোটখাটো ধস নামে। তবে সেটা বেশি হয় বর্ষা মৌসুমে। শীত বা গরমে সে ঝুঁকিটা একেবারেই নেই। আর গরম জামাকাপড় ব্যবহারে অবহেলা না করলে ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকিটাও কমে যায় একেবারেই। তাছাড়া হোটেল কর্তৃপরে সঙ্গে সবরকম বিষয়ে পরামর্শ করে চলাফেরা করলে স্থানীয় দালাল বা হারিয়ে যাওয়ার আশংকা থেকেও আপনি পেয়ে যাবেন পুরোপুরি মুক্তি।
মোট খরচ
স্বল্প খরচে, অল্প আরামে মনটাকে মানিয়ে নিতে পারলে শীত মৌসুমে মাত্র ১৬,০০০ টাকার মধ্যেই আপনি সেরে নিতে পারেন স্বপ্নপুরী দার্জিলিং দেখার যাবতীয় কার্যক্রম। ভালো কথা, এ হিসাবটা শুধু বুড়িমারী সীমান্ত পথের। কলকাতার শিয়ালদহ হয়ে গেলে এ হিসাব বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২০,০০০ টাকায়। আমাদের দেশে রয়েছে অসংখ্য ট্যুরিজম কোম্পানি, যারা দার্জিলিংসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করে থাকে।
আশপাশে
দার্জিলিং শহর থেকে কিছুটা দূরে নেপাল শহরের নিকটবর্তীতে অবস্থান করছে মিরিক লেক ও পশুপতি মার্কেট। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে জনপ্রতি ৪৫০ রুপি ভাড়ার মধ্যে আকর্ষণীয় জিপে ঘুরে আসতে পারেন। সেজন্য অবশ্য আরো একটি দিন বেশি অতিবাহিত করতে হবে দার্জিলিং শহরে। তবুও যাত্রার দিন থেকে নিয়ে সর্বমোট পাঁচ দিনেই সবকিছু ঘুরে-ফিরে আসতে পারবেন আপনার প্রিয়জনদের মাঝে অপূর্ব স্বপ্নিল অভিজ্ঞতা নিয়ে।
মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান
৯ মে ২০১৪, শুক্রবার, ১১:২১

ঘুরে আসুন হিমালয়ের দেশ নেপাল

আবু রায়হান (টুডে বিডি নিউজ) : হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপাল শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে নয়, তাঁর ঐতিহাসিক এবং সনাতন ঐতিহ্যের জন্যে লোকদের আকর্ষণ করে। এর নাগরিক উন্নত সভ্যতার মাঝেও ঝলক পাওয়া যায় সাংস্কৃতিক মুল্যবোধের। ইয়াক, ইয়েতি, স্থপ এবং শেরপাদের ল্যান্ড নেপাল ট্রেকিংয়ের জন্যে একবারে পারফেক্ট জায়গা। কাঠমান্ডু, নেপালের রাজধানী। এখানাকর সব থেকে বড় শহর। কাঠমন্ডু ইতিহাস today bd news-nepal-2প্রায় দুশো বছর পুরনো। ‘খুকরি’ ছুরির আকারের এই শহর নেপালের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রাণবন্ত এই শহরের অভিনব অতিথেয়েতা আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
দরবার স্কোয়ার:- এটি কাঠমন্ডু শহরের সামাজিক এবং ধার্মিক কেন্দ্র। ১২শ থেকে ১৮শ শতাব্দীর মধ্যে তৈরি মহল, মন্দির  দেখতে পাবেন এখানে। তালেজু টেম্পল, তাল বৈরব, নওতলে দরবার, করোনোশন চক, রাজা প্রতাপ মল্রর মূর্তি, বিগ বেল, বিগ গ্রাম এখানকার কিছু দর্শনীয় স্থান। কাঠমান্ডু থেকে ৭ কিমি পূর্বে অবস্থিত ৩৬ মিটার উঁচু।
বৌদ্ধনাথ স্তুপ:- শিল্পের ব্যাতিক্রম নিদর্শন। এখানে প্রয় ৪৫ টি মনাসিট্র আছে।
বালজু ওয়াটার গার্ডেন:- নাগার্জুন হিলসের তলায় অবস্থিত এই বাগানে দেখাতে পাবেন।
পশুপতিনাথ মন্দির:- ভগবান শিবের সব থেকে পবিত্র মন্দির হিসেবে গণ্য পশুপতিনাথ মন্দির কাঠমন্ডু গর্ব। ৪০০ খ্রিস্টাব্দে তৈরি এই মন্দিরের অধুনিক এবং সনাতন স্থাপত্যশিল্প নিঃসন্দেহে আপনাকে আবাক করবে। এই মন্দির নেপালের বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক।
বুধানীল কন্ঠ:- একটি ছোট পুকুরের মধ্যে ভাসমান এই মূর্তি লিচ্ছাবি সভ্যতা ভাস্কর্যের অদ্ভূত নিদর্শন। কালো পাথরে খোদাই করা এই বিশাল বিষ্ণুমূর্তি দুর্লভ এবং অত্যন্ত মুল্যবান।
পোখরা:- পোখরাকে বলা হয় ‘সিটি অফ অ্যাডভেঞ্চারস’। কাঠমান্ডুর ২০০ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত পোখরায় দেখতে পাবেন অন্যন্য লোক এবং উঁচু পর্বতমালা। শহরের কোলাহল থেকে দূরে যারা লেক সাইডে রিল্যাক্স করতে চান বা পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের স্বাদ নিতে চান, পোখরায় চলে আসুন। লেক অঞ্চলেই পোখরার বেশিরভাগ হোটেল, রেস্তেরাঁ খুঁজে পাবেন। আপনি বোটিংও করতে পারেন। পোখরায় দেখে নিন লেকের মধ্যে অবস্থিত বারহী টেম্পল, ছোট পাহাড়ের ওপর অবস্টিথত ডেভিড ফলস। কাঠমান্ডু থেকে প্লেনে অথবা বাসে পৌঁছে যেতে পারেন পোখরাতে। today bd news-nepal-1
 ট্রাভেল চেকলিস্ট:-  কোথায় থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল স্টাইলের হোটেল থেকে শুরু করে কমফর্টেবল লজ এবং গেস্ট হাউজ পেয়ে যাবেন কাঠমান্ডুতে। থামেলাকে কাঠমান্ডুর হোটেল কোয়াটার বলা যেতে পারে। খাওয়দাওয়া:- ট্রাডিশনাল নেপালিজ ফেস্টিভাল ক্যুইজিন, ইটালিয়ান, ভারতীয়, চাইনিজ, থাই খাবার খেতে পারেন। তবে অবশ্যই ট্রাই করবেন নেওয়ারি ক্যুইজিন।
কেনাকাটা:- শপিংয়ের জন্যে কাঠমান্ডুএকেবারে আদর্শ জায়গা। ট্রাহিশনাল স্যুভেনির থেকে কনটেম্পোরারি হ্যান্ডিক্র্যাফ্টস সব পেয়ে যাবেন কাঠমান্ডুতে। খুকরি ছুরি, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, গ্রাস বিগস, মৈতিলী পেন্টিং, সেন্টেড ক্যান্ডেলস এখানকার বিশেষত্ব।
কিভাবে যাবেন:- বিমানে অথবা সড়ক পথে শিলিগুড়ি থেকে কাঁকরভিটাহয়ে নেপালে যাওয়া যায়। নেপালে যেতে চাইলে এয়ারে কোন ভিসা লাগে না। নিন্তু বাই রোড যেতে হলে নেপাল এবং ভারতে ভিসা নিতে হবে। নেপালের কোন ভিসা ফি নেই। ভরতের ভিসা ফি ৪০০ টাকা।
কখন যাবেন: নেপালে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো মার্চ-এপ্রিল অথবা অক্টোবর-নভেম্বর। এ সময় অল্প গরম থাকে এবং ভালোভাবে পাহাড় উপভোগ করা যায়।

বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০১৪

রূপ সৌন্দর্যে অপরূপ আসাম

ওপারে করিমগঞ্জ, এপারে জকিগঞ্জ, মাঝখানে কুশিয়ারা নদী। উপমহাদেশ ভাগাভাগির পর এপার থেকে ওপারে স্বাভাবিকভাবে যাওয়া চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। করিমগঞ্জ এখন আসামের, আর জকিগঞ্জ তো বাংলাদেশে। আসামের প্রতি দুর্বলতা বহু বছর আগে থেকে, যেজন্য আসামের অনেক শহর ঘুরে দেখেছি বারকয়েক ভ্রমণ করে। একবার কুড়িগ্রামের রৌমারিতে এসে শুনলাম, এখান থেকে আসামের ধুবড়ি বেশি দূরে নয়। ব্রহ্মপুত্রের ওপারেই ধুবড়ি। এই ধুবড়ির দক্ষিণ দিক থেকে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র চলে গেছে গোয়ালপাড়া হয়ে গৌহাটির দিকে।
রৌমারির ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বসে আছি। বন্ধু জাপলিন বলল, দাঁতভাঙ্গায় গেলে খুব কাছ থেকে আসামের ধুবড়ি জেলা দেখা যাবে।
কিছুদিন পর ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে আমরা এলাম ধুবড়িতে। সাজানো-গোছানো বেশ সুন্দর শহর। ওখানে উঠেছিলাম জাপলিনের ফুফাতো বোনের বাসায়। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হলে জাপলিনের ফুফু ওই ধুবড়িতেই থেকে গেলেন। তার মুখেই শুনলাম সব। স্মৃতিবিজড়িত ধুবড়ি কি আর ছাড়া যায়! তাই থেকে গেলাম ধুবড়িতে। ধুবড়ি শহরটা ঘুরে দেখার সময় মনে হলো, এ যেন আরেক রংপুর শহর। রংপুরের সঙ্গে অনেকটা মিল।
আসামের ধুবড়ি শহর দেখার সময় স্থানীয় এক কলেজছাত্রের সঙ্গে পরিচয় হতেই তিনি জানালেন, প্রাকৃতিক সম্পদেও আসাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দখল করে আছে। কয়লা, চুনাপাথর, পেট্রল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সিমেন্ট ছাড়াও এই আসাম কিন্তু বনজ সম্পদে সমৃদ্ধ। ধুবড়ি থেকে শুরু করে ডিব্রুগড় পর্যন্ত আসামের বিস্তৃতি। এই আসাম হলো বাংলা ছবির কিংবদন্তির নায়ক-পরিচালক প্রমথেশ চন্দ্র বড়ুয়ার দেশ। আর প্রখ্যাত শিল্পী ভূপেন হাজারিকা আমাদের আসামের গর্ব। তার গাওয়া ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘মেঘ থম থম করে’, ‘গঙ্গা আমার মা’—এসব গান তো শুধু আমাদের প্রিয় নয়, আপনাদেরও... তাই না? কথাগুলো শুনে ছেলেটির মুখপানে তাকিয়ে রইলাম।
মনে মনে ভাবলাম, আসামের ২৭টি জেলা শহর ঘুরে দেখতে পারলে তো ভালোই হয়। ধুবড়ি, কোকরাঝোর, বঙ্গাই গাঁও, বরপেঠা, নলবারি, গৌহাটি, মঙ্গল দৈ, তেজপুর, মরিগাঁও, নগাঁও, উত্তর লখিমপুর, ধেমাজি, ডিব্রুগড়, তিন সুকিয়া, শিবসাগর, জোড়হাট, গোলাঘাট, ডিমাপুর, ডিফু, হাফলং, শিলচর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি, কামরূপ কামাখ্যা, দিসপুর-বাহ্—এ সবই তো জেলা শহর। ধুবড়ি দেখার পর নদীপথে লঞ্চে এলাম গোয়ালপাড়ার দিকে। এখানে কৃষ্ণ নামের এক আবাসিক হোটেলে উঠলাম। গোয়ালপাড়া এসেই বুঝলাম, দৃষ্টিনন্দন আসামের কারুশিল্প এবং কত সুন্দর এখানকার শিল্পীরা। লোকশিল্পের আখ্যান তুলে ধরেছেন শিল্পীরা, তাদের হাতের জাদুতে। জিপসি রমণীদের সূচিশিল্প নজর কাড়ে পর্যটকদের। আর আছে পিতলের নানা সম্ভার, রুপার ঝালরের কারুকাজ, নানা আভরণ, বাঁশ-বেতের নানা কিছু, চিত্রকলা, পাথরের দেবদেবী, হাতির দাঁত ও মোষের শিঙের নানা সম্ভার। এসব দেখে এলাম ব্রহ্মপুত্রের তীরে। এখানেই কিন্তু বাংলার পাঁচ মুড়ারই তুল্য পোড়ামাটি ও শোলায় পৌরাণিক আখ্যান রূপ পেয়েছে। এই গোয়ালপাড়াতেই বসন্তে দোল উত্সব বেশ জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
এক কৃষকের সঙ্গে পরিচয় হলো তার কাছে শুনলাম, চৈত্রসংক্রান্তিতে তিন দিন ধরে ফসল বোনার উত্সব বোহাগ বা রঙালি চলে এই আসামের গাঁও-গেরামে। ফসল কাটার উত্সব চলে আশ্বিনে। এই উত্সবকে বলা হয় বাঙালি বা মাটি বিল্ব। এ উত্সব আশ্বিনসংক্রান্তিতে শুরু হয়ে চলে কার্তিকজুড়ে। তাই একে কার্তিক বিহুও বলা হয়। আর ফসল তোলার উত্সব ভোগালি বা মাঘ বিহু চলে আশ্বিনসংক্রান্তিতে দুই দিন ধরে, গোটা আসামে।
কৃষকের মুখেই শুনলাম, তার নাম প্রমথ হাজারিকা। অনুশোচনার স্বরে তিনি বললেন, জানেন, যখন শুনি ‘মানুষ মানুষের জন্য...’ তখন মনে হয় এ গানের কথা মিথ্যে-মিথ্যে। এ জমানায় মানুষ কি আর মানুষের জন্য হয়! তাই যদি হতো, তাহলে মানুষে মানুষে এত হানাহানি কেন! কেন মানুষ মানুষকে হত্যা করে!
কৃষক প্রমথ হাজারিকা তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। একটা চৌকিতে বসতে দিয়ে বললেন, ‘বসুন, আসছি।’ একটু পরে ষোলো বছর বয়সী একটি ছেলে এসে ট্রেতে কয়েক ধরনের পিঠা এনে রাখল। বলল, এখানে সন্তোষি, রূপসী, নির্মলা নামের পিঠা আছে। খান, বেশ মজা পাবেন।
একটা পিঠা মুখে নিয়ে বললাম, ‘বাহ্! বেশ মজা তো!’
প্রমথ হাজারিকা এসেই বললেন, এই নিখিল আমার সম্পর্কে শ্যালক। স্ত্রীর কোনো ছেলেপুলে হলো না বলেই ওকে রেখে দিয়েছি। জানেন, স্ত্রী অনিতাকে নিয়ে বহু ঠাকুরের কাছে গিয়েছি, কোনো কাজ হয়নি।
গোয়ালপাড়ার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে জেলেদের বসবাস। ওখানে এসে চমকে গেলাম। ডালাভর্তি কত না মাছ! দেখে তো অবাক! এক জেলে বলল, ‘বাবু, জেলেপাড়ায় আজ গানের আসর বসেছে। চলুন, দেখে আসবেন।’ ঢুকতেই কানে ভেসে এলো ‘ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়, মাছ কুটলে মুড়ো দিব/ গাই বিয়োলে দুধ দিব/ মিটিংয়ে যাব না/ অবসর পাব না/ কোনো কাজে লাগব না/ যদুর কপালে আমার ভোট দিয়ে যা...।’ গানের এ কথার সঙ্গে জেলেদের নৃত্য দেখে দু’চোখ যেন সার্থক হয়ে উঠল।
ব্রহ্মপুত্র নদে নৌবিহার করার জন্য মনটা এবার চঞ্চল হয়ে উঠল। এক নৌকাচালককে বললাম, ব্রহ্মপুত্র ঘুরে দেখতে চাই, দু’ঘণ্টায় কত নেবে? উনি বললেন, দুইশ’ টাকা দিলেই চলবে।
দু’নয়ন ভরে দেখে যাচ্ছি অপরূপ ব্রহ্মপুত্রকে। জল থৈ থৈ করছে...। আকাশে তাকিয়ে—না, মেঘ তো থম থম করে না। তুফান হবে না, ভয় কিসের? ভাবলাম, সব জল কি এই আসামের এই ব্রহ্মপুত্রের? তাহলে আমাদের দেশের ব্রহ্মপুত্রের জল কোথায় গেল! ওরা কি কোথাও বাঁধ দিয়ে জলকে আটকে রেখেছে? এজন্যই কি বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্রে জলের এতটা অভাব! নৌকাচালককে এসব কথা বলতেই একটু হেসে বললেন, ‘তাই হয়তো হবে।’
পরদিন এসে পৌঁছালাম গৌহাটিতে। এর পাশেই দিসপুর শহর। সেখানে গড়ে উঠেছে আসামের রাজধানী। আগে তো রাজধানী ছিল গৌহাটিতে। অতীতের প্রাগজ্যোতিষপুর হয়েছে গৌহাটি শহর। গুয়া অর্থ সুপারি আর হাটি হচ্ছে হাট, অর্থাত্ সুপারির হাট ‘গৌহাটি’। আসাম তথা সারা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বারও এই গৌহাটি। আগেও এই শহরে কয়েকবার এসেছি। এবারও চিরচেনা শহরকে দেখে একটু বেশি উত্ফুল্ল হলাম। দিন চলে গেলে তো আসামের গৌহাটি ভ্রমণ শেষ হয়ে যাবে! ভাবলাম, দিনটা কি ধরে রাখা যায় না!
ভালো করেই জানতাম, ব্রহ্মার পুত্র দামাল নদ ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরে ৫৫ মিটার উঁচুতে গড়ে উঠেছে শহর। সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক শহর হিসেবেও পূর্ব ভারতে খ্যাতি আছে গৌহাটির। অতি দ্রুত আধুনিক সাজে প্রসার পেয়েছে এই শহরটি। সব ধর্মের—শৈব, বৈষ্ণব, তন্ত্র (শাক্ত), বৌদ্ধ, ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সহাবস্থান ঘটেছে আসামের গৌহাটিতে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আসাম ট্যুরিস্ট লজে উঠেছিলাম। দেখলাম, লোকজনের তেমন একটা ভিড়ভাট্টা নেই। রাস্তার একপাশে লেখা আছে—গৌহাটি থেকে সড়ক দূরত্ব : কাজিরাঙ্গা-২১৭ কিমি, ডিব্রুগড় ৪৪৫ কিমি, শিবসাগর ৩৬৯ কিমি, মানস ১৭৬ কিমি, ওরাং ১৪০ কিমি, লামডিং ২২১ কিমি, হাফলং ৩৫৫ কিমি, ডিফু ২৬৯ কিমি, দিরং ১০০ কিমি, শিলচর ৩৯৮ কিমি, আগরতলা ৫৯৭ কিমি, ডিমাপুর ২৮০ কিমি, নগাঁও ১২০ কিমি, তেজপুর ১৮১ কিমি, উত্তর লখিমপুর ৪১৫ কিমি, শিলং ১০৩ কিমি, দার্জিলিং ৫৮৭ কিমি, গ্যাংটক ৩২৪ কিমি, (এরপর ৮-এর পৃষ্ঠায়)

(৯-এর পৃষ্ঠার পর)
কলকাতা ১১৬৪ কিমি, দিল্লি ২১৬০ কিমি।
গৌহাটিতে দু’দিন থাকার পরে এবার চললাম জোড়হাটের দিকে। অহম রাজাদের অতীতের রাজধানী জোড়হাটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উল্লেখ্য। এখানে আছে বুড়ি গোহানির মন্দির, ব্রিটিশের গড়া নানা স্মারক, জেলখানার সামনে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মঞ্চ ছাড়াও নানা কিছু। এসব ঘুরে ঘুরে দেখার পরে এলাম চা বাগানে। দেখলাম, এই জেলা শহরের চারদিকে রয়েছে চা বাগানের ছড়াছড়ি। জলবায়ুর গুণেই জোড়হাট চায়ের শহর।
গৌহাটি থেকে ট্রেনে জোড়হাটে গিয়ে উঠেছিলাম হোটেল প্যারাডাইসে। হোটেলের ম্যানেজার বেশ রসিক লোক। ভ্রমণে এসেছি শুনে বললেন, এখান থেকে বেশি দূরে নয় মাজুলী দ্বীপ। বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ এটি, অতীতে আয়তন ছিল ২৮২১.৬৫ একর। নানা মঠ, নানা আখড়া রয়েছে এখানে। অন্যতম বৈষ্ণবতীর্থ মাজুলীতে গেলে আনন্দ পাবেন। কমলাবাড়ী মাজুলীর প্রধান কেন্দ্র। জোড়হাট থেকে বাস বা ট্যাক্সিতে নিয়ামতিঘাট পৌঁছে ভটভটি বা লঞ্চে পারাপার। তার পরই দেখা পাবেন মাজুলী দ্বীপের। এই দ্বীপের উত্তরে লখিমপুর, উত্তর-পশ্চিমে শোনিতপুর, দক্ষিণে গোলঘাট ও এই জোড়হাট, পূর্বে শিবসাগর।
এবার ভাবলাম, শিবসাগরের দিকে এগোই। বাসে চলে এলাম শিবসাগরে। এটি জেলা শহর। অতীতের অহম রাজাদের রাজধানী শহর। তখন নাম ছিল তার রঙ্গপুর। জোড়হাট থেকে শিবসাগরের দূরত্ব মাত্র ৫৬ কিমি।
ভাবলাম, জীবনে হয়তো শিবসাগরে আর আসা নাও হতে পারে। এখানে এসে উঠলাম আসাম ট্যুরিস্ট লজে। ৩-৪ ঘণ্টার চুক্তিতে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম শিবসাগর দেখতে। শিব আর সাগর—এই দুয়ে মিলে শিবসাগর। ১২৯ একর ব্যাপ্ত দুইশ’ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই শিবসাগর অর্থাত্ জলাশয়। এর পাড়েই ট্যুরিস্ট লজ। শিবসাগর আকারে অবিকল সাগরের মতো মনে হলো। এর পাড়ে দেখলাম শিবডোল অর্থাত্ শিবমন্দির। ওখানকার এক ঠাকুর জানালেন, শিবসিংহের রানী মাদামবুকা ১৭৩৪ সালে এটি তৈরি করান। ভারতীয় শিবমন্দিরগুলোর মধ্যে এটিই উচ্চতম। উচ্চতা ১০৪ ফুট। শিবরাত্রিতে দূর-দূরান্ত থেকে তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন।
শিবমন্দির দেখার পর এলাম বিষ্ণু ডোল ও দেবী ডোল দেখতে। এ দু’টি হলো দুর্গা মন্দির।
শিবসাগরের মাঝপথে দিখৌ নদী। এটি পেরুতেই দেখলাম ডিম্বাকার দ্বিতল রঙঘর। এটি অহমরাজ প্রমত্ত সিংহ ১৭৪৪ সালে তৈরি করান। এখানকার এক গাইডের মুখে এ কথাই জানলাম। তিনি আরও জানালেন, এই রঙঘর প্যাভিলিয়নে বসে হাতির যুদ্ধ ও নানা জন্তুর খেলা অর্থাত্ রঙ্গ দেখতেন রাজা। আজও এখানে জাঁকজমকপূর্ণ বিহু উত্সবের আসর বসে।
শিবসাগর থেকে ৫ কিমি দূরে ৩১৮ একর জমি নিয়ে জলে টলটল জয়সাগর দেখার জন্য এবার এলাম এখানে। মাতৃস্মৃতিতে ১৬৯৭ সালে অহম রাজ রুদ্র সিংহের হাতে ৪৫ দিনে তৈরি হয় জয়সাগর। দেখলাম, এর পাড়ে রয়েছে কলেজ, মত্স্য গবেষণা কেন্দ্র, মন্দিররাজি—জয়ডোল ও শিবডোল। আর আছে বাঙালি স্থপতি ঘনশ্যামের ডেরা বা নিত গোঁসাই। জয়সাগর থেকে ১৬ কিমি দক্ষিণে গিয়ে দেখলাম ‘গৌরী সাগর’। ১৫০ একর ব্যাপ্ত গৌরীসাগর খনন করান শিব সিংহের প্রথম স্ত্রী রানী ফুলেশ্বরী ১৭২৩ সালে। মন্দিরও রয়েছে দেবী দুর্গার গৌরীসাগরের পাড়ে।
শিবসাগর এতই ভালো লেগে যায়, যেজন্য এখানে একদিন থাকার পরে পরপর চার দিন থেকেছিলাম। শিবসাগর থেকে ১৩ কিমি পূর্বে গড়গাঁওয়ে অতীতের কারেঙ্গঘর অর্থাত্ পিরামিডধর্মী রাজপ্রাসাদটি দেখে তো আরও অবাক হলাম। অতীতের কারুকার্য বিনষ্ট হলেও এখানে ভাস্কর্য বড্ড সুন্দর মনে হলো। লোকমুখে শুনলাম, ১৫৪০ সালে স্বর্গদেব চাও চুকেনমুঙে কাঠ আর পাথরে গড়েন ৭ তলার এই প্রাসাদটি। এর সিংহদরজাটি প্রমত্ত সিংহের, যা বর্তমান রূপ পায় ১৭৫২ সালে রাজেশ্বর সিংহের হাতে। তবে ১৬৯৯ সালে অহমরাজ রুদ্র সিংহ স্থানান্তর ঘটান রাজধানীর। তৈরি করেন নতুন করে কয়েকটি ঘর, রঙঘরের অদূরে পথের বিপরীতে। তলাতল ঘর নামেও সমধিক খ্যাত এটি। এরও ৪টি তলা ওপরে, ৩টি তলা মাটির তলে।
এখানে এসে দাঁড়িয়ে দু’নয়ন ভরে দেখে যাচ্ছি। আরও শুনলাম, মাটির তলে ছিল সেনানিবাস, রানীমহল, এমনকি ২টি সুড়ঙ্গপথও ছিল সেকালে। একটিতে গড়গাঁওয়ের কারেঙ্গঘর, দ্বিতীয়টিতে দিখৌ নদীর সঙ্গে সংযোগ ঘটে। তবে আজ সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ।
শিবসাগরের মিকির উপজাতির জীবনযাত্রাও আমার মনে বৈচিত্র্যের স্বাদ এনে দিল। এদের পাড়া ঘুরে দেখার পরে এলাম প্রথম অহমরাজ সুখাফারু (১২২৯) নির্মিত রাজধানী শহরটি দেখতে। এছাড়া আজান পীরের দরগা দেখে ফিরে এলাম শিবসাগরে। তখনও সন্ধ্যা নামেনি। হোটেল বয় চা এনে রাখল। চা মুখে দেয়ার আগেই চায়ের গন্ধ আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করল। মুখে দিয়ে বললাম, বাহ্! এমন চা আর কোথায় মেলে! এ তো খাঁটি চা...। ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আর রূপসী বাংলা হোটেলে এমনটি তো পাইনি! বাহ্, এ জীবনে এই বুঝি সত্যিকার অর্থে চা পান করলাম।
এবার ভাবলাম, গোলঘাটে ফিরে যাওয়ার কথা। বাস ধরে এলাম মহকুমা শহর গোলঘাটে। উঠলাম মধুবন হোটেলে। ছোট্ট শহর গোলঘাট থেকে অরুণাচল রাজ্য আর নাগাল্যান্ড রাজ্য দু’টি খুব কাছে। ইচ্ছা করেই সেবারে ওই দুই রাজ্যে যাওয়া হয়নি। আসামের রূপে মুগ্ধ হয়ে আরও ভাবলাম, ফিরে যাই জেলা শহর করিমগঞ্জে। সময় হাতে ছিল না বলেই গৌহাটিতে ফিরে এলাম।
এবার ট্রেনে চলেছি গৌহাটি থেকে কলকাতার দিকে। এক সহযাত্রীর সঙ্গে আলাপ। ভদ্রলোক বাঙালি জেলা শহর তেজপুরে বাড়িঘর করেছেন বহু বছর আগে। বয়স সত্তর। দু-চার কথা হতেই বেশ সম্পর্ক গড়াল। তিনিই জানালেন, ১৮৩৯ সালে আসাম গেল বাংলায়। চিফ কমিশনারের শাসনাধীনে ১৮৭৪ সালে প্রভিন্সে রূপ পায় আসাম। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ, অর্থাত্ বাংলার পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আসামের মিলন ঘটায় সেদিনের ব্রিটিশরাজ। ১৯৪৭-এর উপমহাদেশ ভাগাভাগিতে করিমগঞ্জ ছেড়ে সিলেট গেল পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের আপনাদের বাংলাদেশে...। ইচ্ছা করলে আমার বাবা বাংলাদেশে যেতে পারতেন। যাননি! যদিও আমার পূর্বপুরুষদের আদিবাড়ি সিলেটে। ওখানে কেউ-ই নেই। আমাদের আত্মীয়স্বজন সবাই যে আসামের বিভিন্ন শহর, যেমন—গৌহাটি, ডিব্রুগড়, শিবসাগর, উত্তর লখিমপুর, করিমগঞ্জে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। জিজ্ঞাসা—‘আপনার নাম?’
একটু হেসে, ‘মোরশেদ আলী চৌধুরী’। নামটি শুনে তার দিকে তাকিয়ে বললাম, হ্যাঁ, আবার এই অপরূপ আসামে যে আসবই। আসতেই যে হবে...। লি য়া ক ত হো সে ন খো ক ন