শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

নিউ ইয়র্কে কয়েকদিন

bangladeshi-people-area-jac.jpg
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অধ্যুষিত এলাকা
আমাদের হলুদ ট্যাক্সিক্যাব যখন হাডসন নদী পার হবার জন্য ব্রিজের উপর উঠল, সেদিন শনিবার হলেও ব্রিজে বেশ যানজট। অপর প্রান্তের শহরের চেয়েও শক্ত ইস্পাতের তৈরি, প্রায় শতবর্ষ পুরানো কুইনস্ বোরো ব্রিজটির কারুকার্য, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা মনোযোগ কাড়ছিল। তদুপরি নদীর অপর পারে সারি সারি বিভিন্ন আকারের, জড়াজড়ি করে থাকা শত শত ভবন দেখে বুঝতে বাকি রইল না যে ছোটবেলা থেকে ছবিতে, টিভি পর্দায় দেখা নিউ ইয়র্ক শহরে প্রবেশ করেছি।
শহর মঞ্জরী: নিউ ইয়র্ক প্রদেশের নিউ ইয়র্ক শহরটির গুরুত্ব বোঝাতে শহরটিকে কেন্দ্রীয় স্নায়ু ব্যবস্থার সাথে তুলনা করা হয়। ঢাকার মতই প্রায় চার’শ বছরে গড়ে ওঠা এই বিখ্যাত শহরটি ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে এক পূর্ণাঙ্গ শহর। মার্কিনীদের শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল, নানান ঐতিহাসিক বৈচিত্রের দর্শনীয় স্থান, পর্যটকদের প্রধান ভ্রমণ স্থল। নিউ ইয়র্ক স্টক একচেঞ্জ ও জাতিসংঘের সদর দপ্তর এখানে থাকায় নিউ ইয়র্ক শুধু মার্কিনীদের কাছে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষেরও গন্তব্যস্থল। শহরে শতবর্ষের পুরানো ইমারত যেমন আছে, চল্লিশ, পঞ্চাশ তলা বা আরও সুউচ্চ নতুন ভবনও গড়ে উঠেছে।

asif-at-jackson-heights-1.jpg
জ্যাকসন হাইটস্-এ লেখক
শহরের সর্বোচ্চ এম্পায়ার এষ্টেট ভবন ও ৪০০ মিটার উচু ব্যাংক অব আমেরিকা ভবন দু’টি নির্মাণ শৈলী কম বিস্ময়মকর নয়। প্রাচীন ভবনগুলোর নির্মাণ কাঠামো, কারুকার্যে ঐতিহ্যের ছাপ মুগ্ধ করে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কারণেই ভবনগুলোকে ভাঙা বা বেরঙা মনে হয় না। বিভিন্ন জাতির সহাবস্থান বলেই হয়তো নিউ ইয়র্কে মানুষগুলোর সহজতা ও আন্তরিকতা বেশি। ইন্টারনেট, ক্রেডিট কার্ড আর পিৎজা-বার্গার নির্ভর অতি আধুনিকতা আর খোলামেলা জীবন আচরণের মাঝেও মানুষের আশা আকাঙ্খা ও মানবিক সম্পর্কের মৌলিক বিষয়গুলো একই রকম। স্বামী-স্ত্রী (বন্ধুও হতে পারে) রাস্তায় যেতে যেতে খুনসুঁটি করা, বয়সের ভারে ক্লান্ত বৃদ্ধের ছোট দোকান সাজিয়ে গ্রাহকের অপেক্ষায় ঝিমানো কিংবা নিউ জার্সির তরুণী রোজমেরী যার সাইকোলজিতে, সাহিত্যে প্রবল আগ্রহ অথচ তার মা তাকে চাপ দিচ্ছেন ব্যবসায় প্রশাসন বা কম্পিউটারে পড়ার জন্য–এই দোটানার ভাবনায় ব্যস্ত সে—এ রকমই খণ্ড খণ্ড জীবন চিত্র নিউ ইয়র্কবাসীদের।
টাইম স্কায়ার ম্যাজিক: দুপুরে খেতে বের হয়ে প্রথম যখন টাইম স্কয়ারে এসে দাঁড়ালাম, খানিকটা গোলকধাঁধার মত মনে হল। টাইম স্কয়ারকে বলা হয় পৃথিবীর মোড় (Crossroad)। চত্বরটি খুব একটা বড় নয়, অন্য যেকোন, চারদিক থেকে আসা চারটি রাস্তার সংযোগস্থলের মতই। মোড়ের একপাশে নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্চ (NASDAQ) অপর পাশে প্যারামাউন্ট ভবন।
asif-at-time-square-nw.jpg
টাইম স্কয়ারে লেখক
রাস্তার একেবারে মাঝে একপাশে নিউ ইয়র্ক পুলিশের একটি স্টেশন, অপর পাশে ইউএস আর্মির নিয়োগ কেন্দ্র। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ স্থানটিকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করেছে। আমার কলিগ অমি আজাদ, যিনি দেশে বাবার অসুস্থতায় ক’দিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, এখানে এসে পুলকিত হলেন, সানন্দে ছবি তুলতে লাগলেন। চত্বরটিতে দাঁড়ালে সবচেয়ে বিস্মিত হতে হয় এখানে আসা নানান জাতির মানুষ দেখে। সাদা, কালো, হিস্পানী, ককেশীয়, পাকিস্তানি, আরব, ভারতীয়, চীনা, বাঙালি—কেউ ছবি তুলছে, কেউ বসে আড্ডা দিচ্ছে, কেউ কবুতরকে খাওয়াচ্ছে, কেউ শুধু শুধু ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাতের টাইম স্কয়ার এক ধরনের হ্যালুসিনেশন তৈরি করে। বিশাল আয়তনের সব টিভি পর্দা আর নিয়ন সাইনের ঝলমলে বিশ্ববিখ্যাত সব ব্রান্ডের রঙিন বিজ্ঞাপন, পর্যটকদের কলকাকলী, ব্রডওয়ে থিয়েটারের বাইরে এবং খাবার দোকানগুলোতে ভীড়, গাড়ির শব্দ—সবকিছু মিলিয়ে চেনা-অচেনা এক ভুবনে অবস্থানের অনুভূতি হয়।
স্ট্যাচু অব লিবার্টি: নিউ ইয়র্কে পর্যটকদের অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান স্ট্যাচু অব লিবার্টি।
asif-at-statue-of-liberty.jpg
………..
স্ট্যাচু অব লিবার্টি’র সামনে লেখক
………..
এক সকালে দীর্ঘ দু’ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কড়া নিরাপত্তা তল্লাশী পার হয়ে প্রায় সাত’শ পর্যটকের সাথে আমিও ষ্টিমারে উঠলাম স্ট্যাচু অব লিবার্টি দ্বীপটির উদ্দেশ্যে। নদীর মাঝখানে এলিস আইসল্যান্ডের পাশে জ্বলন্ত মশাল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা নারী মূর্তিটি মার্কিনীদের স্বাধীনতার ও জ্ঞানের প্রতীক। মূর্তিটি আপাদমস্তক যাজকদের মত পোষাক, বুদ্ধিদীপ্ত, দৃঢ়, স্বল্প হাস্য মুখশ্রীর অভিব্যক্তি মুগ্ধ করে। স্ট্যাচুর চারপাশের চত্বর জুড়ে মিউজিয়াম, স্যুভেনিরের দোকান, ফুডকোর্ট আর চারদিকে সবুজ চত্বর।
বাঙালির বাঙালিয়ানা: টাইম স্কয়ারের মত জায়গায় বাংলাদেশিদের দেখা পাব ভাবিনি। ব্যস্ত রাস্তার মোড়েই রীতিমত কয়েকটি বড় দোকান যেগুলোর কয়েকটি বাঙালি মালিকানার এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোক কাজ করেন। দেখা হতেই বুঝতে পারেন, এগিয়ে আসেন, আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং দেশি ভাই বলে পণ্যের মূল্য কম রাখার আশ্বাস দেন। নিউ ইয়র্কে বাঙালিদের মূল জায়গা জ্যাকসন হাইটসে গিয়ে চারপাশে বাঙালিদের দেখে মনে হবে ঢাকা বা কোন ছোট মফস্বল শহরে এসেছি। আলাউদ্দিনের মিষ্টির দোকান, আড়ং, সাদাকালো, হাটবাজারের বা অন্যান্য অনেক রকম দোকান যেমন আছে, ফুটপাতের কোথাও কোথাও বাঙালি সবজি বিক্রেতাও দেখা যাবে। সাইত্রিশ এভিনিউতে দোতলায় মুক্তধারার বেশ বড় বইয়ের দোকান।
asif-at-muktodhara-jakson-h.jpg
নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস্-এ মুক্তধারার বইয়ের দোকানে অমি আজাদের সাথে লেখক
পুরানো, নতুন বইয়ের সাথে সিডি, ডিভিডি, পত্রিকা, ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যতত্ত্বে পড়াশুনা করা আজাদ ভাই মুক্তধারার ম্যানেজার, জানালেন বেশিরভাগ বাঙালি চাকুরী করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানিদের আধিপত্য বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান, প্রায় ১৮ বছর নিউ ইয়র্কে আছেন। আমাকে পেয়ে গল্প জুড়ে দিলেন, জানালেন বাঙালিদের নানান সমস্যা, সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা। উনি একসময় বিটিভিতে অভিনয় করতেন, সেসব গল্প করলেন, সাথে ছবি তুললেন। পান বিতান নামের দোকানের মালিক বেলাল হোসেন (যার পদবী প্রেসিডেন্ট) ক্ষোভের সাথে জানালেন কিভাবে ভারতীয়রা ভাল চাকুরী, ব্যবসা করে এগিয়ে যাচ্ছে অথচ বাঙালিদের খুব কমই উচ্চশিক্ষিত, সম্মানজনক পেশায় আছেন। জ্যাকসন হাইটসের পাশের এলাকা কুইনসে দেখা মিলল দু’জন বাঙালি ভাইয়ের যারা রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোল করছেন। আমাকে একটি ঠিকানা চিনিয়ে দিতে দু’জনই কাজ ফেলে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। অতিথিপরায়ন বাঙালি কাউকে আতিথেয়তার সুযোগ ছাড়েন না। এজি অফিসের সাবেক কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম, বারো বছর নিউ ইয়র্কে আছেন, আমাকে তার গাড়ি দিতে চাইলেন ঘুরে বেড়ানোর জন্য, তার স্ত্রী অনুরোধ করলেন তার বাসায় উঠতে। ভাল লাগল নিউ ইয়র্কের মাটিতে বাঙালির আন্তরিকতার, বাঙালিয়ানার পুনঃপরিচয় পেয়ে।
asif-with-colleagues-at-bur.jpg
নিউ ইয়র্কে কলিগদের সাথে লেখক
সেন্টাল পার্কের একটি ছোট্ট ঘটনা দিয়ে শেষ করছি। স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখার জন্য লাইনে দাঁড়ানো পর্যটকদের গান শোনাচ্ছিলেন এক আফ্রো-আমেরিকান বৃদ্ধ। যে যার মত করে পয়সা ফেলছিলো তার বাটিতে। আমি খুব কাছাকাছি আসতে জিজ্ঞেস করলেন, আমি ভারত থেকে কিনা। আমি বাংলাদেশি বলতেই তার গিটারে চমৎকার সুর তুললেন “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি”। জিজ্ঞেস করতে জানালেন, কিছুদিন ভারতে ছিলেন সেখানেই সুরটা শিখেছেন। সুদূর আমেরিকায় ভিনদেশী এই অপরিচিত বৃদ্ধের কাছে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের সুর শুনে চমৎকৃত হয়েছি। এক সময় নিউ ইয়র্কের অনেক অভিজ্ঞতাই হয়তো স্মৃতির ধুলোয় মুছে যাবে। কিন্তু এই বৃদ্ধের গিটারে বাজানো সুরটি কখনোই মুছে যাবে না।
হাটখোলা, ঢাকা।

চীনের বিখ্যাত পর্যটন শহর

চীন একটি জাতিবহুল দেশ যার আয়তন বিশাল।বিভিন্ন জায়গার শহরের গঠন স্ববৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।উত্তরচীনে আছে চীনের রাজধানি পেইচিং; পূর্ব চীনে আছে চীনের অর্থনৈতিক কেন্দ্র---সাংহাই; পশ্চিমাঞ্চলে সুষ্পস্ট জাতির বৈশিষ্টসম্পন্ন লাসা; দক্ষিণাংশে আছে চার ঋতুতে বসন্ত কালের মতো খুয়েনমিন ইত্যাদি।সুন্দর আর জনব্যস্তশহর চীনের ৯৬ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের ভুমিতে এক একটি উজ্জ্বলমণির মতো বিস্তারিত হয়।

       বর্তমানে চীনে মোট ১৩৭টি শহর নিখিল চীনের শ্রেষ্ঠ পর্যটন শহরের উপাধিতে ভুষিত হয়েছে।এগুলোর মধ্যে, সাংহাই শহর, পেইচিং শহর, থিয়েনচিন শহর, ছোংছিং শহর, সেনজেন শহর, হাংযৌ শহর, তালিয়েন শহর, নানজিং শহর, শিয়ামেন শহর, গুয়াংযৌ শহর, ছেংতু শহর, শেনইয়াং শহর, ছিংডাও শহর, নিংপো শহর, সিআন শহর, হারবিন শহর, জিনান শহর, ছাংছুন শহর, লাসা শহর প্রভৃতি।তা ছাড়া, হারবিন শহর, জিলিন শহর, চেংচৌ শহর, চাছিং শহর, লিওযৌ শহর , ছিনতাও শহর প্রভৃতি দশাধিক শহর চীনের ঐতিহাসিক আর সাংস্কৃতিক শহর নির্বাচিত হয়েছে।


 পেইচিং

      পেইচিং চীনের রাজধানী এবং চীনের রাজনীতি ও সংস্কৃতিরকেন্দ্র।উত্তরচীনের সমলতভূমিতে অবস্থিত রাজধানী পেইচিং। ভৌগলিক দিকে থেকে, পেইচিং, আর ইতালির রোম, স্পেনের মাদ্রিদএকই অক্ষাংশে অবস্থিত।মৌসুমী বায়ুর প্রভাবাধীন বলে শীতকাল আর শ্রীষ্মকাল অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ, বসন্ত আর শরত ঋতুর সময় নাতিদীর্ঘ আর শুকনো।বছরে গড়পড়তা তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৮ সেন্টিগ্রেড।

       পেইচিংএর ইতিহাস সুদীর্ঘকালের।৩০০ হাজার বছর আগে পেইচিং শহরের গোড়া পত্তন হয়।বসন্ত ও শরত যুগ আর যুদ্ধমান রাজ্যসমূহের যুগে (খৃষ্টপুর্ব ৭৭০ থেকে ২২১ খৃষ্টাব্দ) , পেইচিং অঞ্চল কয়েকটি রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়।ছিন, হ্যান আর তিন রাজ্য সময়পূর্বেপেইচিং শহর চীনের উত্তরাংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর ছিল। পেইচিং একটি রাজধানী হিসেবে শুরু হয় ছিন রাজবংশের আমলে ।এর পর পেইচিং ইউয়ান, মিং আর ছিং রাজবংশের রাজধানী ছিল।মোট ৩৪টি রাজা এখান থেকে সারা চীনের প্রশাসন চালাতেন।

       নয়া চীন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, বিশেষভাবে চীনে সংস্কার ও উন্মুক্ততা চালু হওয়ার বিশাধিক বছরে পেইচিংএর চেহারা দিন দিন বদলে গেছে এবং যাচ্ছে।নানা ধরনের আধুনিক অট্রালিকানির্মান করা হয়েছে।বৈদেশিক নীতি অনবরত সম্প্রসারিত হয়েছে।বর্তমানে পেইচিং বড় ধাপে আন্তর্জাতিক শহরগুলোর সারিতে প্রবেশ করছে।এখানে প্রাচীন সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আর আধুনিক রীতির সুন্দর সমন্বয় দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষন করে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেইচিং প্রত্যেক বছরে লক্ষাধিক বিদেশী আর কোটি কোটি অভ্যন্তরীণ পর্যটককে স্বাগত জানায়।

       সুদীর্ঘ ইতিহাস পেইচিংএর জন্য অজস্র সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার আর পুরাকীর্তি এবং বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক আকর্ষন রেখে দিয়েছে।যদি আপনি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও পুরাকীর্তি পছন্দ করেন, তাহলে আপনি সুমহান মহা- প্রাচীর আরোহন করতে পারেন , বিরাটাকারের নিষিদ্ধ নগরী বা রাজপ্রাসাদ যাদুঘর, গ্রীষ্মকালীণ রাজ প্রাসাদ, পোইহাই হৃদ, শিয়াংসান বা সুগন্ধী পাহাড়, স্বর্গণীয়মন্দির প্রভৃতি উদ্যান পরিদর্শন করতে পারেন।যেখানে সুন্দর ,সুচারু আর সুমহান স্থাপত্যগুলো দেখা যায় সেখানে গেলে দেখার শেষ নেই।যদি আপনি চীনের প্রাচীন সংস্কৃতি আর গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাহিনী জানতে চান তাহলে আপনি অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির বসতি পরিদর্শন করতে পারেন এবং পেইচিং অপেরা শুনতে পারেন।যদি আপনি চীনের রাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি , সামরিক বিষয়াদি প্রভৃতি নানা ক্ষেত্রের উন্নতির হালচাল জানতে চান তাহলে আপনি পেইচিংএর শতাধিক যাদুঘর যেতে পারেন।আপনি যদি প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে যান তাহলে পেইচিংএর উপকন্ঠের সুন্দর পাহাড় আর নদ-নদী আপনার কৌতুহল মেটাবে।

      বর্তমানে চীনের ৪টি “ক” শ্রেণির দর্শনীয়স্থান পেইচিংএ অবস্থিত।এগুলো হলো: স্বর্গণীয়মন্দির, মিং রাজাদের সমাধিস্থান , গ্রীষ্মকালীণ রাজ প্রাসাদ, পেইচিং সমুদ্রিক প্রাণীর যাদুঘর, বাতালিং মহাপ্রাচীর, পোহাই-চিংসান পার্ক, চীনা জাতির উদ্যান, চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভবন, পেইচিং চিরিয়াখানা , পেইচিং উদ্ভিদ জীববিজ্ঞানউদ্যান ইত্যদি।

সিআন

       চীনের উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত সিআন হলো চীনের শানসি প্রদেশের রাজধানী।সিআনকে চীনের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল আর চীনে অভ্যন্তরীণ প্রদেশগুলোর মধ্যে রাজনীতি, অর্থনীতি আর পরিবহনের কেন্দ্র বলে গণ্য করা হয়।

       চীনের ছ’টি রাজবংশের রাজধানীর (সিআন, লোইয়াং, নানচিং কাইফেং, হাংযৌ, পেইচিং) মধ্যে সিআন শহরের ইতিহাস সবচেয়ে দীর্ঘ। বাকি পাঁচটি রাজবংশের রাজধানীর তুলনায় সিআন রাজধানী হিসেবে থাকার সময়ও সবচেয়ে দীর্ঘ। সিআনের খ্যাতি চীনের অন্য যে কোনো শহরের চেয়ে পৃথক।আধুনিক ইতিহাসবিদের ধারণা অনুসারে ,চীনের ইতিহাসে সিআন দশটি রাজবংশের রাজধানী ছিল।এ দশটি রাজবংশ হলো: পশ্চিম চৌ , চিন, পশ্চিম হ্যান, পূর্ব চাও, পূর্ব ছিন, পরবর্তী ছিন, পশ্চিম উয়ে, উত্তর চৌ , সুই আর থাং।সুতরাং সহস্র বছরের প্রাচীন রাজধানী সিআন চীনের ইতিহাসে সুদুর প্রভাব বিস্তার করেছে। চীনের অন্যান্য শহর তার সংগে কোনো তুলনা করা যায় না ।

       বিশ্বের চারটি প্রাচীন রাজবংশের রাজধানী হিসেবে সিআন একটি প্রসিদ্ধ দর্শনীয়স্থান।বিশ্বের অষ্টম বড় বিস্ময় বলে খ্যাত ছিন শিহুয়াং-এর সৈনিক ও ঘোড়ার মুর্তির যাদুঘর সিআন শহরের লিঠং বিভাগে অবস্থিত। এই যাদুঘরে মোট ৬০০০টিরও বেশী মূর্তি আছে। এ সব মূর্তি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে মহান আবিস্কার হিসেবে গণ্য করা হয়।তা ছাড়া, সিআনে আরো আছে তাইয়ান প্যাগোডা, হুওছিন পুকুর, হুওয়াসেন পবর্ত প্রভৃতি দশর্নীয় স্থান (ছবি হলো ছিন রাজবংশের সৈনিক ও ঘোড়ার মূর্তির যাদুঘর) লাসা

       লাসা চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী।তার মোট আয়তন ২৯০৫২ বর্গ কিলোমিটার। হিমালয়ে পবর্তের উত্তর দিকে অবস্থিত এই শহরে বছরে বেশির সময় আকাশে মেঘমুক্ত , বৃষ্টিপাত কম। শীতকালে তেমন ঠান্ডা নেই , গ্রীষ্মকালও তেমন গরম নয়। বছরে গড়পড়তা তাপমাত্রা ৭.৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রিড। জুলাই, অগাষ্ট আর সেপ্টেম্বর মাসে বেশি বৃষ্টপাত হয় ।বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫০০ মিলিমিটারের কাছাকাছি। বছরে দিনের আলোর স্থায়িত্বকাল ৩০০০ ঘন্টারও বেশী। তাই লাসাকে রৌদের শহর ডাকা হয়। লাসার বায়ু সাতজ, রৌদ্রোজ্জ্বল, দিন বেলায় উষ্ণ আবার রাত্রীবেলায়ায় হিমেল।গ্রীষ্মকালে লাসা একটি অবসর কাটানোর মনোরম জায়গা।

       লাসা “পৃথিবীর ছাদ ” নামক ছিংহাই-তিব্বত মালভূমিতে অবস্থিত। গড়-উচ্চতা সমুদ্র-সমতলের তুলনায় ৩৬০০ মিটারেরও বেশী।সেখানে বায়ুর চাপ এবং ঘনত্ব কম। অভ্যন্তরীণ ভূভাগের চাইতে বায়ুতে অক্সিজেনের অনুপাত গড়পড়তা শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কম। প্রথমে মালভূমিতে আসলে মাথায় ব্যাথা , নিশ্বাসে কষ্টের অনুভূতি হয়।কিন্তু লাসা পৌছানোর দিন পর একটু বিশ্রাম নিলে এ সব লক্ষণ কমে যায় বা অদৃশ্য হয়ে যায় । এপ্রিল মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত তিব্বতে ভ্রমনের সবচেয়ে ভালো সময়।

       তিব্বতী ভাষায় লাসার অর্থ হলো দেবতার অধিষ্ঠানের পবিত্র স্থান। লাসা শহরের ইতাহাস সুদীর্ঘকালের ।সেখানে ধর্মনীয় সংস্কৃতির পরিবেশ ঘণ। শহরের প্রধান দর্শনীয়স্থান হলো: ডাওচাও মন্দির, বাখু সড়ক, বুদালা প্রাসাদ ইত্যাদি(ছবি হলো দূর থেকে চোখে পড়া বুদালা প্রাসাদ)


চীনের আর্কষনীয় ছোট নগর

চীনের শহরগুলোর ইতিহাস সুদীর্ঘকালের।বিশেষ করে যে সব শহরের ইতিহাস শতাধিক বছরের এবং যে সব শহর ভালভাবে সংরক্ষিত হয়েছে সে সব শহরের অত্যন্ত আকর্ষণ আছে।যেমন ইয়ুন্নান প্রদেশের লিচিয়াং নদী বিশ্ব সংস্কৃতি উত্তরাধিকারের তালিকাভুক্ত হয়েছে। ছোট ছোট শহরের ইতিহাস আর সংস্কৃতি, ছোট ছোট শহরের প্রাচীনকাল ও বর্তমান বহু পর্যটকের অনুসন্ধানের স্থানে পরিণত হয়েছে।সুতরাং চৌওজুয়াং, প্রাচীন ফিনিক্স নগর, ইয়াংসু, উজেন, নানশিয়েন আর ডালি প্রভৃতি ছোট শহরগুলো দেশী-বিদেশী পযর্টকদের নয়নগোচর হয়েছে।

চৌওজুয়াং

       চৌওজুয়াং ছোট নগর চীনের পুর্বাংশের চিয়াংসু প্রদেশে অবস্থিত, প্রাচীন সুচৌ শহর থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার দূর ।চীনের প্রাচীনকালের রবিখ্যাত চিত্রকর মিষ্টার উ গুয়েনজং তাঁর একটি প্রবন্ধে লিখেছেন , “ হুয়ানসেন পাহাড়ে চীনের পবর্তমালার সৌন্দর্যের সমাবেশ , চৌওজুয়াং নগরে চীনের নদনদীর সৌন্দর্যের সমাবেশ। বিদেশের পত্রপত্রিকাগুলোতে চীনের চৌওজুয়াং নগরকে “চীনের প্রথম জলাঞ্চল” বলে আখ্যায়িত হয় ।
      চৌওজুয়াং নগরের চার দিকে বেস্টন করে আছে : দিন হ্রদ,বাইজিয়েন হ্রদ, দিনসেন হ্রদ, নান হ্রদ ও ৩০টি ছোট-বড় নদনদী। গোটা নগরের বাড়ীঘর সবই নদীর তীরে নির্মিত হয়।এ সব প্রাচীন শৈলীর স্থাপত্য শান্ত আর পরিছন্ন পবিবেশ প্রকাশ পায়।গোটা নগরে ৬০ শতাংশের আবাস মিং আর ছিং রাজবংশ আমলের স্থাপত্য। কেবল ০.৪ বর্গকিলোমিটারের আয়তন আধিকারী এই প্রাচীন নগরে প্রায় শতাধিক প্রাচীন শৈলীর আবাস আর ষাটটিরও বেশী ইটের ভাস্কর্য গেট-টাওয়ার রয়েছে ।এর সঙ্গে সঙ্গে চৌওজুয়াং নগরে ১৪টি স্ববৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাচীন সেতু সংরক্ষিত আছে।এ সব সেতুতে দক্ষিণ চীনের বৈশিষ্টমূলক “ছোট সেতু, নদীতে পানি প্রবাহিত এবং নদীর তীরে আবাস” এই অদ্বিতীয় রীতিনীতি প্রতিফলিত হয়।চৌওজুয়াং নগরের পরিবেশ শান্ত আর পরিচ্ছন্ন। চৌওজুয়াং একটি পড়াশুনার সন্তোষজনক জায়গা এবং ওখানে লোকেরা পড়াশুনার দিকে বেশী মনোযোগ দেন।চীনের মিং আর ছিং রাজবংশ আমলে প্রাসাদের আয়োজিত পরীক্ষায় চৌওজুয়াং নগরে ২০ জনের বেশী লোক উত্তীর্ণ হয়ে প্রাসাদের কর্মকর্তা হন। এক সময় অনেক পন্ডিত আর শিল্পী সাহিত্য আর শিল্পর্কমের পদ্ধতিতে এই ছোট নগরের ইতিহাসের শোভা যুগিয়েছেন।পশ্চিম চিন রাজবংশ আমলের সাহিত্যিক জেন ইয়ু , লিও ইয়ু শি , লু গুয়েমেন প্রমুখ চৌওজুয়াং নগরে বসবাস করতেন ।

       চৌওজুয়াং নগরের প্রধান প্রধান দর্শনীয়স্থান হলো: ছিয়েনফু মন্দির, দেনশিই ডাওয়ুন, সেনঠান, ফুআন সেতু, মিলো ইত্যাদি।
       সুচৌ আর সাংহাই শহরের মাঝখানে অবস্থতি বলে চৌওজুয়াং পৌছতে চলাফেরা অত্যন্ত সুবিধাজনক। সাংহাই বা সুচৌ থেকে সুরাসুরি গাড়ীতে চৌওজুয়াং যাতায়াতা করা যায়।সাংহাইয়ের খুব কাছাকাছি বলে পর্যটকরা এক দিনের মধ্যে চৌওজুয়াং এবং সাংহাইয়ের মধ্যে আসা-যাওয়া করেন।সুতরাং, চৌওজুয়াংএ কাতারসন্পন্ন হোটেল বেশী নেই।অধিকাংশ হোটেল হলো স্থানীয় অধিবাসীদের চালানো হোটেল। যদিও ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নয়, তবুও পরিবেশ মন্দ নয়।


প্রাচীন ফিনিক্স নগর

       ফিনিক্স নগর চীনের হুনান প্রদেশের পশ্চিমাংশের থু জাতি স্বায়ত্তশাসিত বিভাগে অবস্থিত।নিউজিল্যাণ্ডের লেখক এক সময় প্রাচীন ফিনিক্স নগরকে “চীনের সবচেয়ে সুন্দর ছোট নগরগুলোর অন্যতম” হিসেবে গণ্য করতেন।চীনের ছিং রাজবংশের রাজা খাংশির শাসনকালে প্রতিষ্ঠিত এই নগর এত ছোট যাতে কেবলমাত্র একটি বড় সড়ক আছে।কিন্তু এই সড়ক হলো একটি সবুজ করিডর ।ফিনিক্স নগর হুনান প্রদেশের পশ্চিমাংশের একটি উজ্জ্বল মণি বলে আখ্যায়িত।
       প্রাচীন ফিনিক্স নগর নতুন আর পুরানো দুটো অঞ্চলে ভাগ করা হয়।পুরানো নগর পাহাড়ের তলদেশে এবং পানির পাশে অবস্থিত।ডোচিয়াংয়ের স্বচ্ছ পানি নগর ছুঁয়ে বয়ে প্রবাহিত হয়।লাল রংয়ের ইটের তৈরী নগরের দেওয়াল নদীর তীরে বসানো হয় ।নানহুয়া পাহাড়ও পুরাতন নগরের দেওয়ালের টাওয়ার সামনা-সামনি।ছিং রাজবংশ আমলে এই টাওয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়।নগরের উত্তর দ্বারের বাইরে একটি নদীর উপর একটি সরু কাঠের সেতু আছে । এই সেতুর স্তম্ভ হলো পাথর। দুজন লোক মুখোমুখি পার হলে দেহ এক পাশে ঘুরতে হয়।অতীতে এটি ছিল নগর থেকে বহির্গমনের এক মাত্র পথ।

       চীনের আধুনিক যুগের বিখ্যাত লেখক সেন ছন ভেনের জন্মস্থান বলে ফিনিক্স নগরের সুনাম অর্জিত হয়।প্রাচীন নগরের জনইন সড়কের প্রস্তরফলক গলির প্রান্তে অবস্থিত সেন ছন ভেনের সাবেক বাসস্থান।তার এই সাবেক বাসস্থান দেখতে ঠিক পেইচিংয়ের চক মেলানো বাড়ীর মতো।গোটা বাসস্থান ইট আর কাঠের কাঠামো।কালো ছাদ আর সাদা দেওয়াল, কাঠে খোদাই-করা জানালায় ঘনঘন সাংস্কৃতিক পরিবেশ প্রকাশ পায়।ফিনিক্স নগরে গেলে আপনি প্রথমে বিমান যোগে হুনান প্রদেশের চিশিও শহর পৌছাবেন, তারপর আবার গাড়ী পরিবর্তন করতে হবে।
SOURCE LINK 

চীনের পর্যটনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়


http://bengali.cri.cn
চীনের শুল্ক বিভাগে গমনাগমন তথ্য
http://bengali.cri.cn/chinaabc/images/c.gif
     
 চীনের শুল্ক বিভাগে প্রবেশ করা আর তা থেকে ত্যাগ করার সময়ে পর্যটকদের চীনের শুল্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিধি মেনে চলতে হবে। শুল্ক বিভাগে আপনার সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা যাতে নির্বিঘ্নে দেখা হয় এবং আপনার ভ্রমন আনন্দে শুরু হয় তার জন্য কয়েকটি বিষয় এখানে আমাদের বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে।

দরখান্ত

  নিম্ন উল্লেখিত জিনিসপত্র সংগে নেওয়া হলে অথবা পোষ্টে পাঠাতে হলে পর্যটকদের শুল্ক বিভাগের কাছে দরখাস্তদরথাস্ত করতে হবে।

শুল্ক বিভাগের কর আদায় অথবা সীমিত পরিমাণে করমুক্ত এমন জিনিস;

ভ্রমন চলাকালে পর্যটকদের সঙ্গে থাকা দৈনিক ব্যবহৃত পণ্যদ্রব্য; যেসব পণ্যদ্রব্য ভ্রমনে নিয়ে আসা-যাওয়া নিষিদ্ধ সেসব পণ্যদ্রব্য; ভ্রমনে পর্যটকদের পক্ষে বরাবরই প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য;

যে সব পণ্যদ্রব্য শুল্ক বিভাগে নিয়ে যেতে আর আনতে চীন সরকার বাধা দেয়---পুরাকীর্তি, মুদ্রা, সোনা আর রৌপ্য এবং সোনা ও রৌপ্যের তৈরী পণ্যদ্রব্য, ছাপানো সামগ্রী, অডিও আর ভিডিও প্রভৃতি পণ্যদ্রব্য;

মালপত্র , মালপত্রের নমুনা এবং যে সব পণ্যদ্রব্য পর্যটকদের সংগে থাকা লাগেজে অন্তভূর্ত করা হয় না;

লাল আর সবুজ পথ

যারা কর পরিশোধ করতে চান এবং শুল্ক বিভাগ পার হওয়ার জন্য সংস্লিষ্ট ব্যবস্থা নিতে চান তারা লাল পথ বেছে নিতে পারেন, অন্যান্য পযর্টক সবুজ পথ দিয়ে যেতে পারেন।

সাধারন নিয়ম-বিধি

শুল্ক বিভাগ পার হওয়ার সময় সমস্ত পণ্যদ্রব্য পরীক্ষা নেয়ার জন্য শুল্ক বিভাগের কাছে দেখাতে হবে।যে সব জিনিজপত্রের উপর শুল্ক বিভাগের পরীক্ষা শেষ হয়নি সে সব জিনিজপত্র সঙ্গে নেওয়া যায় না।

  যে সব জিনিজপত্র আলাদা আলাদাভাবে পাঠানো হয় সে সব জিনিজপত্র পর্যটকদের আবেদন পত্রে লিখতে হবে।যে দিন পর্যটকরা সীমান্তে প্রবেশ করেন সে দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পণ্যদ্রব্য আনা হলে সেগুলো পণ্যদ্রব্যের উপর শুল্ক বিভাগের পরীক্ষা নেওয়া হবে ।

পর্যটকের যে জিনিজপত্র সম্বন্ধে আবেদন-পত্র শুল্ক বিভাগের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সেই আবেদন-পত্র ভালভাবে রাক্ষা উচিত, যাতে শুল্ক বিভাগ থেকে ত্যাগ করা এবং ভবিষ্যতে আবার ভ্রমণ করতে আসার সময় কাজে লাগে।

  তা ছাড়া, যদি কোনো পর্যটক পূরাকীর্তি সঙ্গে শুল্ক বিভাগ থেকে নিতে যান, তাহলে শুল্ক বিভাগের কাছে আবেদন জানাতে হবে।যে সব দোকান (বিশেষভাবে পুরাকীর্তির দোকান বা মৈত্রী দোকান) পুরার্কীতি ব্যবসার লাইসেন্স পেয়েছে সে সব দোকান থেকে পর্যটকরা যে পুরাকীর্তি কেনেছেন নিদির্ষ্ট রসিড এবং চীনের পুরাকীর্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগে রসিদ-দেওয়া প্রতীক অনুযায়ী শুল্ক বিভাগ তা আটকে রাখে না। অন্যান্য উপায়ে পর্যটকরা যে সব পুরাকীর্তি পেয়েছেন সে সব পুরাকীর্তি সঙ্গে নিতে চাইলৈ , (যেমন নিজের পরিবারের অথবা আত্মীয়সজ্বনদের দেওয়া উপহার ) চীনের পুরাকীর্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আগে থেকে রিপোট দিতে হবে।বর্তমানে,পেইচিং, সাংহাই , তিয়েচিন, গুওয়াংযৌ প্রভৃতি আটটি বন্দরে যাচাই করার সংস্থা আছে।এ সব পুরাকীর্তি সঙ্গে নিতে হলে সংশ্লিষ্ট পুরাকীর্তি বিভাগের অনুমোদন-পত্র দেখাতে হবে।পুরাকীর্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনুমোদন পত্র দেখে শুল্ক বিভাগ পুরাকীর্তি পার হতে দেয়। 


চীনে ভ্রমণকালে মুদ্রা ব্যবহারের তথ্য
http://bengali.cri.cn/chinaabc/images/c.gif

      চীনের মুদ্রা
 

চীনের মুদ্রার নাম হলো রেনমিনপি।চীনের গণ ব্যাংক এই মুদ্রা প্রকাশ করে।রেমিনপির ইউনিট হলো, ইয়ান, তার পর চিআও আর ফেন ।১০ চিআও হলো এক ইয়ান, ১০ ফেন হলো এক চিআও।ইয়ানের ইউনিটে আছে, এক , দুই, পাচ, দশ, পঞ্চাশ এবং একশো।চিআওয়ের ইউনিটে আছে এক , দুই আর পাচ।ফেনের ইউনিটে আছে এক , দুই আর পাচ।রেনমিনপির সংক্ষিপ্ত চিহৃ হলো RMB

বিদেশী মুদ্রার বিনিময়

       চীনে এখন যে সব বিদেশী মুদ্রা বিনিময় করা যায় সে সব বিদেশী মুদ্রা হলো: মার্কিন ডলার, পাউন্ড, ইউরো, জাপানীস ইউয়ান, অষ্ট্রেলিয়ান ডলার, ক্যানাডিয়ান ডলার, হংকং ডলার , সুইজল্যান্ড ফ্রানক, ডানিস ক্রোন, নওয়েগিয়ান ক্রোন, সুইডিস ক্রোন, শিংগাপুর ডলার, মালয়েশিয়ার রিগ্গিট, ম্যাকাও ডলার প্রভৃতি।চীনের ব্যাংকগুলোতে এ সব মুদ্রার বিনিময় করা হয়।

    চীনের বর্তমান প্রচলিত বিদেশী মুদ্রা ব্যবস্থাপনার আইন বিধি অনুযায়ী, চীন গণ প্রজাতন্ত্রে বিদেশী মুদ্রার প্রচলন নিষিদ্ধ এবং বিদেশী মুদ্রা দিয়ে হিসাব করা যায় না। এ ক্ষেত্রে চীনে ভ্রমণ করতে আসা বিদেশী আর হংকং ও ম্যাকাও স্বদেশীয়রা যাতে সুবিধা পায় সেই জন্য চীনা ব্যাংক এবং বিদেশী মূদ্রা বিনিময় করার ব্যাস্থা আছে এমন ব্যাংকগুলোতে বিদেশী মূদ্রার পর্যটন চেক নেয়া হয় এবং বিদেশের ক্রেডিট কার্ডে রেনমিনপির বিনিময় করা যায়। তা ছাড়া, পর্যটকদের আরো সুবিধা যুগিয়ে দেওয়ার জন্য, ব্যাংক ছাড়া হোটেল আর দোকানগুলোতে বিদেশী মূদ্রা রেনমিনপির বিনিময় করা হয়।চীনে ভ্রমণ শেষে যে সব রেনমিনপি বাকী থাকে , সে সব রেনমিনপি চীন থেকে ত্যাগ করার আগে ছয় মাসের মধ্যে বলবত বিদেশী মুদ্রা বিনিময়ের চেক দিয়ে বিদেশী মুদ্রা বিনিময় করা যায়।ভিন্ন অবস্থায় বিনিময়ের হার ভিন্ন।পর্যটন চেক , ক্রেডিট কার্ড এবং মনিঅর্ডার বিনিময় করা হলে ক্রেয় মূল্য, বিদেশী মূদ্রা দিয়ে রেনমিনপি বিনিময় করা হলে বাট মূল্য, নগদ টাকা দিয়েও বিনিময় করা হলেও একই মূল্য।রেনমিনপি দিয়ে বিদেশী মূদ্রা বিনিময় করা হলে নগদ ক্রয় মূল্য।

যেসব বিদেশী ক্রেডিট কার্ড বর্তমানে চীনে ব্যবহারা যায়

       বর্তমানে চীনে যেসব বিদেশী ক্রেডিট কার্ড তৈরী করা হয় সে সব ক্রেডিট কার্ড হলো, মাস্টার কার্ড( Master Card), ভিসার কার্ড(Vise Card) , আমেরিকান ইকসপ্রেস কার্ড(American Express Card), জে সি বি কার্ড(JC B) এবং ডাইনার্স কার্ড(D iners Card)







চীনে র বিখ্যাত হোটেল 
http://bengali.cri.cn/chinaabc/images/c.gif
     
 বতর্মানে চীনে(তাইওয়ান , হংকং আর ম্যাখ্যাও ছাড়া) মোট ৮৮৮০টি তারা শ্রেণীসম্পন্ন হোটেল সারা চীনের ৩১টি প্রদেশ, কেন্দ্রীয় শাসিত শহর আর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে। প্রায় ৯ লক্ষ ঘর আছে। এ সব হোটেলের মধ্যে পাঁচ তারা শ্রেণীর হোটেল ১৭৫টি, চার তারা শ্রেণীর হোটেল ৬৩৫টি, তিন তারা শ্রেণীর হোটল ২৮৪৬টি , দুই তারা শ্রেণীর হোটেল ৪৪১৪টি এবং এক তারা শ্রেণীর হোটেল ৮১০টি।
চীনের প্রধান প্রধান পাচঁ তারা শ্রেণী হোটেলের তালিকা
[ পেইচিং]
হোটেলের নাম
টেলিফোন
ঠিকানা
পেইচিং হোটেল
৮৬-১০-৬৫১৩৭৭৬৬
পূর্ব পৌর-জেলার ছাংআন সড়কের ৩৩ নং
চীনের বৃহত হোটেল
চীনের বৃহত হোটেল
ছিয়েনগুমেন আউট স্ট্রিড ১ নং
মহা প্রাচীর হোটেল
৮৬-১০-৬৫৯০৫৫৬৬
চাওইয়াং পৌর-জেলার পূর্ব তিন নং বেশ্টিত সড়কের উত্তর অংশের ১০ নং
কুয়েলিন হোটেল
৮৬-১০-৬৫০০৩৩৮৮
চাওইয়াং পৌর-জেলার শিংইয়ান দক্ষিণ সড়ক
ছাংফুগন হোটেল
৮৬-১০-৬৫১২৫৫৫৫
ছিয়েগুমেন ইন্নে স্ট্রিট ২৬ নং
অতিথি ভবন হোটেল
৮৬-১০-৬৫১৩৭৭৮৮
পূর্ব ছাংআন সড়ক
শিংগেরেলা হোটেল
৮৬-১০-৬৮৫১২২১১
হাইডিয়েন পৌর-জেলার জিজুইয়েন রোড
হওয়াফু হোটেল
৮৬-১০-৬৫১২৮৮৯৯
পূর্ব পৌর-জেলার সোনালী মাছ গলি
[সাংহাই]
হোটেলের নাম
টেলিফোন
ঠিকানা
নতুন চিনচিয়াং হোটেল
৮৬-২১-৬৪১৫১১৮৮
ছাংলোও সড়ক ১৬১ নং
শিলটন হোটেল
৮৬-২১-৬২৪৮০০০০
হুয়াসেন সড়ক ২৫০
পুডং শাংগারেলা হোটেল
৮৬-২১-৬৮৮২৮৮৮৮
পুডং নতুন এলাকার ফুছেন সড়ক ৩৩ নং
পুস্মেলিচা হোটেল
৮৬-২১-৬২৭৯৮৮৮৮
ছিআন পৌর-জেলা নানচিং পশ্চিম রোড ১৩৭৬
[ থিয়ানজিন ]
হোটেলের নাম
টেলিফোন
ঠিকানা
শিলটন হোটেল
৮৬-২২-৩৩৪৩৩৮৮
থিয়ানজিন শহরের হো পৌর-জেলার চিনসেন রোড
[গুওয়াংযৌ ]
হোটেলের নাম
টেলিফোন
ঠিকানা
সাদা রাজহাঁস হোটেল
৮৬-২০-৮১৮৮৬৯৬৮
৮৬-২০-৮১৮৮৬৯৬৮
উদ্যান হোটেল
৮৬-২০-৮৩৩৩৮৯৮৯
গুওয়াংযৌ হুয়েসির পূর্ব সড়ক ৩৬৮ নং
চীনের বৃহত হোটেল
৮৬-২০-৮৬৬৬৩৩৮৮
গুওয়াংযৌ শহরের লিওহুআ রোড
[ডালিয়েন]
হোটেলের নাম
টেলিফোন
ঠিকানা
ফুলিহুয়া বৃহত হোটেল
৮৬-৪১১-৮২৬৩০৮৮৮
ডালিয়েন রেনমিন রোড ৬০ নম্ব 
[সিআন]
হোটেলের নাম
টেলিফোন
ঠিকানা
কাইইয়ু হোটেল
৮৬-২৯-৭২৩১২৩৪
পূর্ব সড়ক ১৫৮ 
শিলটন হোটেল
৮৬-২৯-৪২৬১৮৮৮
ফনগাও রোড ১২ নং 


http://bengali.cri.cn/chinaabc/images/c.gifhttp://bengali.cri.cn/chinaabc/images/c.gif
চীনের বিখ্যাত পর্যটন সংস্থা
http://bengali.cri.cn/chinaabc/images/c.gif

      বর্তমানে চীনে মোট ১১৬১৫টি পর্যটন সংস্থা আছে যাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা ১৩৫৮টি, অভ্যন্তরীণ পর্যটন সংস্থা ১০২৫৭টি। বিখ্যাত পর্যটন সংস্থা
 
পেইচিং
পর্যটন সংস্থ
টেলিফোন
ঠিকানা
চীনের আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থ
৮৬-১০-৮৫২২৮৮৬৬
পেইচিং শহরের পূর্ব বিভাগ, ডংডান উত্তর সড়ক , ১ নং
চীনের পর্যটন সংসস্থ 
৮৬-১০-৬৪২২২৮৮
পেইচিং শহরের উত্তর বেষ্টিত সড়কের পূব রোডের ২ নং
চীনের যুব পর্যটন সংস্থ
৮৬-১০-৬৪৫৬৩৮০
পেইচিং শহরের চাওইয়াং বিভাগের জুওচাছুন রোডের ১ নং 
চীনের খাংহুয়ে পর্যটন সংস্থা
৮৬-১০-৬৫৯৪০৮৮৫
পেইচিং শহরের কৃষি প্রদর্শনী ভবনের দক্ষিণ রোডের ৫ নং
 সাংহাই 
পর্যটন সংস্থা
টিলিফন
ঠিকানা
সাংহাই উয়েহাং আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা
৮৬-২১-৬৩৫০০১৭০
সাংহাইএর নানচিং পূর্ব রোডের ৮০০ নং
সাংহাইএর ইয়াংজি আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থ
৮৬-২১-৬২৯৯৯৪০৩
সাংহাই শহরের চাওহোচিন হাইটেক অর্থনৈতিক উন্নয়ন অঞ্চলের গুয়েলিন রোড ৫৯৫ নং
গুয়াংযৌ 
পর্যটন সংস্থ
টেলিফোন
ঠিকানা
গুয়াংযৌ তিয়েনমা আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা
৮৬-২০-৮১৮৮১৮৮০
গুয়াংযৌ শহরের ইয়েচিং সিলু ১১৩ নং
সিআন
পর্যটন সংস্থা
টেলিফোন
ঠিকানা
সিআন শিক্ষা আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা
৮৬-২৯-৫৩৬১০১৮
সিআন শহরের ছাআন দক্ষিন রোডের ৪৪৭ নং
সেনজেন
পর্যটন সংস্থ
টেলিফোন
ঠিকানা
সেনজেন পত্রপত্রিকা শিল্প আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা
৮৬-৭৫৫-৮২১০১৯১৫
সেনজেন শহরের সেনান মধ্য রোডের ১০১৪ নং
ছেনডু
পর্যটন সংস্থ
টেলিফোন
ঠিকানা
ছেনডু বৈদেশী পর্যটন কম্পানি
৮৬-২৮-৮৬৭৪১১১৩
ছেনডু শহরের শিয়েনছেন সড়কের শিয়েনচি ভবন
 
 
http://bengali.cri.cn/chinaabc/images/c.gif